কোটালীপাড়ায় ১০০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স যেন নিজেই এক রোগী।
কোটালিপাড়া( গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি:- শেখ কামরুজ্জামান (রানা)
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নতি হলেও কর্মকর্তা-কর্মচারীর কম থাকায় চিকিৎসা দিতে ব্যার্থ হচ্ছে হাসপাতাল কতৃপক্ষ। পর্যাপ্ত ডাক্তার ও নার্স না থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সেবা নিতে আসা রুগীদের ।২০২৩ সালে হাসপাতালে দুটি লিফট বসানো হলেও লিফট অপারেটরের অভাব, বর্তমানে লিফটের সেবা অকার্যকর, সেবা থেকে বঞ্চিত রোগীরা । এক কোটি টাকার বিশাল আকৃতির জেনারেটর থাকলেও লোডশেডিং এর সময় কোন কাজে আসেনা জেনারেটরটি। সিনিয়র কনসালটেন্ট / জুনিয়র কনসালটেন্ট মজুরিকৃত পদ ২১ পদায়নকৃত ০৫ শুন্য পদ ১৭ শতাংশ।মেডিকেল অফিসার ও সহকারী সার্রজন ৪২ পদায়নকৃত ১০ শুন্যপদ ৩৩ শতাংশ। মাঠ কর্মচারী সংখ্যা ৬৩ পদায়নকৃত ৩৬ শুন্যপদ ২৭ শতাংশ। এই শুন্যপদ থাকার কারনে সেবা থেকে ব্যবহত হচ্ছে রুগীরা এমনটা দাবি করছেন হাসপাতাল কতৃপক্ষ। হাসপাতালে সর্বমোট ওয়ার্কিং এরিয়া ৮৫০০০ হাজার বর্গফুট। রাজস্ব খাতে মাত্র ৩ জন পরিছন্নতাকর্মী ও আউটসোসিং মাধ্যমে জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় হাসপাতলটি পরিষ্কার পরিছন্নতা রাখাটা সম্ভব হয় না । রাজস্ব খাতে মাত্র এক জন নিরাপওা কর্মী থাকয় ৮৫০০০ হাজার বর্গফুট এরিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করাটাও কঠিন হয়ে পড়ে। প্রতিনিয়ত চুরি হচ্ছে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম , ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে হাসপাতালের জরুরি সেবা।
গাইনি এন্ড অবস্ ও সার্জারী বিভাগ: গাইনি এন্ড অবস্ সার্জারী বিভাগে দীর্ঘদিন যাবৎ পদায়ন কৃত পদ থাকা সত্বেও শুন্য রয়েছে এখনও গাইনি ও সার্জারী সেবা বঞ্চিত জনসাধারণ। এক্স-রে, এমআর আই, আল্ট্রটাসোনোগ্রফি এগুলোর পর্যাপ্ত মেকানিজম থাকা সত্বেও টেকনোসিয়ানের অভাবে অচল অবস্থায় পড়ে আছে হাসপাতালে। দরিদ্র মানুষের বাড়তি টাকা দিয়ে বাহিরে ব্যঙের চাতার মত গড়ে ওঠা ডায়াগোনিষ্টিক সেন্টার থেকে সেবা নিতে হচ্ছে যেটা খুবই কষ্টকর। সরকারি এ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দ আছে তিনটি যার ২ টি ইঞ্জিন নষ্ট ১ টি দিয়ে কোন ভাবে সর্বোচ্চ কোটালীপাড়া থেকে গোপালগঞ্জ পর্যন্ত যেতে পারে, অন্যটির কাগজ পত্রও সঠিক নয়।
ভুক্তভোগী জনসাধারণ বলেন আমরা এখানে সেবা নিতে এসে প্রতিনিয়ত ব্যহত হতে হচ্ছে ঠিক মত ডাক্তার নেই। বিশেষ করে সিজারের ব্যবস্থা থাকা সত্বেও কোন সিজার এখান পর্যন্ত হয়নি বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। নোংরা পরিবেশ, বন্ধ লিফট, অকেজো পরিবেশ বেষ্ট ফিডিং এ আল্ট্রসোনোগ্রাফ,এক কোটি টাকার মৃত জেনারেটর নামে মাএ। অক্সিজেনের লাইন থাকা সত্বেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সেবা।
এই বিষয়ে কোটালিপাড়া উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃকুমার মৃদুল দাসের কাছে জানতে চাইলে বলেন আমার হাসপাতালে পর্যপ্ত ডাক্তার, নার্স,ল্যাব এসিস্ট্যান্ট, আউটসোসিং জনবল, পরিচ্ছনাতা কর্মী, নিরাপওা কর্মী না থাকার কারনে আমরা প্রতিনিয়ত সেবা দিতে ব্যার্থ। আমি এই বিষয়ে গোপালগঞ্জ সিভিল সার্জন তথা টুঙ্গিপাড়া -কোটালিপাড়া -৩ আসনের সাংসদ সদস্য এস এম জিলানী কে অবগত করা হয়েছে।