মাদকের আখড়া খিদিরপুর বড়ভিটা: দুর্নীতির সংবাদ করায় সাংবাদিক মাহবুবের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও হামলা
বিশেষ প্রতিনিধি, নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের খিদিরপুর বড়ভিটা এলাকাটি বর্তমানে অপরাধীদের এক অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। এলাকায় নিষিদ্ধ মাদক কারবার, অবৈধ জুয়ার আসর এবং ধর্মের নামে প্রতারণার ব্যবসা এখন ওপেন সিক্রেট। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই এলাকার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই অপরাধ চক্রের সাথে যুক্ত। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে খিদিরপুর বড়ভিটার সাথে রূপগঞ্জের তারাবো পৌরসভার মৈকুলি ও বরপা এলাকার গভীর সংযোগ রয়েছে। বড়ভিটার বাসিন্দাদের যাতায়াতের একমাত্র প্রধান সড়কটি মৈকুলি খাদুন দিয়ে হওয়ায়, এই অপরাধ চক্রটি মৈকুলি ও বড়ভিটা সীমান্তকে কেন্দ্র করে গড়ে তুলেছে মাদকের এক বিশাল সাম্রাজ্য।
আর এই অপরাধ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে কলম ধরায় বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন জাতীয় দৈনিক ‘বিজনেস ফাইল’ পত্রিকার নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক মাহবুব হাওলাদার। সত্য সংবাদ প্রকাশের জেরে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী দুর্নীতিবাজ চক্র তার বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা, হয়রানি ও বর্বরোচিত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
কেন টার্গেট হলেন সাংবাদিক মাহবুব?
খিদিরপুর বড়ভিটা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সাথে বসবাস করছেন সাংবাদিক মাহবুব হাওলাদার ও তার পরিবার। তিনি এর আগে দৈনিক জাতীয় অর্থনীতি, দৈনিক অগ্নিশিখা, দৈনিক আলোর জগত, এবং জেএ টিভি ও কিউ টিভিতে সাহসিকতার সাথে কাজ করেছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, স্থানীয় স্বপ্না ও নিজাম শিকদার পরিবারের সুনির্দিষ্ট কিছু দুর্নীতি, মাদক কারবার ও অবৈধ অর্থপাচারের তথ্য সংগ্রহ শুরু করেন মাহবুব। বিশেষ করে নিজাম শিকদারের বড় মেয়ে নিশাত আফরিন এমিলার বিভিন্ন অপকর্মের অনুসন্ধান করতে গেলেই বিপত্তির শুরু হয়। অনুসন্ধানী তথ্য প্রকাশের উদ্যোগ নিলে নিজাম ও স্বপ্না পরিবার সাংবাদিক মাহবুবকে সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি দেয়। অপরাধী চক্রটি ক্ষমতার দম্ভ দেখিয়ে দাবি করে, ‘টাকার জোরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের পকেটে’।
দলবদল ও চক্রান্তের নতুন সমীকরণ
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, অভিযুক্ত নিজাম ও স্বপ্না পরিবার বিগত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের দোসর হিসেবে কাজ করেছে। তারা এলাকায় আওয়ামী লীগের গোপন তথ্য সরবরাহকারী বা গোয়েন্দা হিসেবে সক্রিয় ছিল। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নিজেদের পিঠ বাঁচাতে তারা কৌশল বদলেছে। বর্তমানে এলাকার কিছু কথিত বিএনপি নেতা-কর্মীকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে নিজেদের পক্ষে ভিড়িয়েছে এই চক্র। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এলাকায় কোনো তদন্তে গেলে, এই চক্রটি রাজনৈতিক প্রভাব ও টাকার জোরে সাধারণ মানুষকে প্রলোভন দেখিয়ে সাংবাদিক মাহবুবের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট সাক্ষ্য দেওয়ানোর নীল নকশা বাস্তবায়ন করছে।
রুপের দাপট ও ধর্মের নামে কোটি টাকার ‘স্বপ্ন মহল’
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, সাংবাদিক মাহবুবের বিরুদ্ধে সম্প্রতি একটি মিথ্যা মানহানি মামলা দায়ের করেছেন নিজাম শিকদারের বড় মেয়ে নিশাত আফরিন এমিলা। অনুসন্ধানে নেমে স্থানীয় সাংবাদিকদের একটি দল জানতে পারে, এমিলার বিরুদ্ধে বিয়ের আগে ও পরে নানাবিধ সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়জনিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে, যা এখন এলাকার মানুষের মুখে মুখে।
এই চক্রের অন্যতম মূলহোতা স্বপ্না নামের এক রহস্যময়ী নারী। এলাকায় তিনি ‘ভান্ডারী’ সেজে ধর্মের নামে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য ফেঁদে বসেছেন। উরস, শিন্নি ও মাহফিলের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়ে রাতারাতি কোটিপতি বনে গেছেন তিনি। কোনো দৃশ্যমান বৈধ আয়ের উৎস না থাকলেও এই অবৈধ টাকায় তিনি গড়ে তুলেছেন আলিশান ‘স্বপ্ন মহল’। স্বপ্না নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য এলাকায় একদল অন্ধ মুরিদ ও সন্ত্রাসী বাহিনী লালন-পালন করেন। এই মুরিদ বাহিনীকে যেভাবে শেখানো হয়, তারা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বা সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সামনে তোতাপাখির মতো ঠিক সেভাবেই মিথ্যা ও বানোয়াট জবানবন্দি দিয়ে থাকে।
সাংবাদিকের বাড়িতে নিশাচর হামলা
সবশেষ গত ২৯শে মে রাতে সাংবাদিক মাহবুবের সত্যের কণ্ঠরোধ করতে তার নিজ বাড়িতে আকস্মিক ও বর্বরোচিত হামলা চালায় স্বপ্না ও নিজাম শিকদারের এই যৌথ বাহিনী। প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, হামলায় সরাসরি অংশ নেয় সিয়াম, ইমন, নিজাম শিকদার, স্বপ্না, লিটন, কাশেম, ফারুক, নিশাত আফরিন এমিলা এবং নিজাম শিকদারের স্ত্রীসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী। তারা সাংবাদিক মাহবুব ও তার পরিবারকে অবরুদ্ধ করে প্রাণনাশের চেষ্টা চালায় এবং বাড়িঘর ভাঙচুর করে।
পেশাজীবী ও এলাকাবাসীর দাবি
একজন কলম সৈনিকের ওপর এমন পরিকল্পিত মিথ্যা মামলা, হয়রানি এবং গভীর রাতে বাড়িতে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী এবং সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। সাংবাদিক মাহবুবের পরিবারের পক্ষ থেকে এই অপরাধী চক্রের হাত থেকে বাঁচতে এবং মাদকের এই অভয়ারণ্য গুঁড়িয়ে দিতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, খিদিরপুর বড়ভিটা এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে এবং একজন স্বাধীন সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে সিয়াম, ইমন, নিজাম ও স্বপ্নাসহ পুরো গ্যাংটির বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।