ইছাপুরা-কায়েতপাড়া সেতু এক বছরে চালুর ঘোষণা
সাইফুল ইসলাম রাজু, রূপগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে দীর্ঘদিন ধরে ধীরগতিতে চলা ইছাপুরা সেতু এবং প্রায় দুই যুগ ধরে ঝুলে থাকা নগরপাড়া-কায়েতপাড়া সেতুর নির্মাণকাজ আগামী এক বছরের মধ্যে সম্পন্ন করে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। বৃহস্পতিবার দুপুরে বালু নদীর ওপর নির্মাণাধীন এ দুটি সেতু পরিদর্শন শেষে তিনি এ আশ্বাস দেন।
পরিদর্শনকালে নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু, গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানী, ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর এবং সেতু বিভাগ, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর ও নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সেতু প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব সাংবাদিকদের বলেন, একটি কুচক্রী মহল বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পের কাজ বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছে। তবে বর্তমান সরকার জনগণের স্বার্থে সব অসমাপ্ত উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে কাজ করছে। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ও ধীরগতিতে থাকা এ দুটি সেতুর কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে আগামী এক বছরের মধ্যে চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
তিনি বলেন, সেতু দুটি চালু হলে রাজধানীর খিলক্ষেত ও খিলগাঁও এলাকার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ সহজ হবে। এতে রূপগঞ্জের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আসবে এবং উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।
নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান বলেন, সরকার উন্নয়ন ও জনকল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। আজ থেকে এক বছর পর এ দুটি সেতু দিয়ে মানুষ নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে বলে আমরা আশাবাদী।
উল্লেখ্য, রূপগঞ্জের ইছাপুরা সেতুর নির্মাণকাজে দীর্ঘসূত্রিতা ও জনদুর্ভোগ নিয়ে সম্প্রতি দৈনিক এদিন অনলাইন এবং ডিজিটালে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর পর-ই সেতু প্রতিমন্ত্রীর সরেজমিন পরিদর্শন ও নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার ঘোষণা স্থানীয়দের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নগরপাড়া-কায়েতপাড়া সেতুর নির্মাণকাজ ২০০৩ সালে প্রায় ৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে শুরু হয়। এক বছরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নানা জটিলতায় ২৩ বছর পরও প্রকল্পটি অসমাপ্ত রয়েছে।
অন্যদিকে, পুরোনো ইছাপুরা বেইলি সেতুর পরিবর্তে ২০১৮ সালে ৩২০ মিটার দীর্ঘ নতুন সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন কারণে প্রকল্পের অগ্রগতি থমকে যায়। বর্তমানে সেতুটির প্রায় ৭৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সেতু দুটি নির্মাণ শেষ হলে রূপগঞ্জের উত্তরাঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষের যাতায়াত সহজ হবে। একই সঙ্গে রাজধানীর সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।