জুমআর বয়ানে মাদ্রাসা রক্ষার ডাক: খতীবদের প্রতি মাওলানা সাদিকুর রহমানের বিশেষ আহ্বান
আল আমিন সুমন আহমদ, সিলেট প্রতিনিধি
দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে মাদ্রাসার অস্তিত্ব রক্ষা এবং দ্বীনি শিক্ষার সুরক্ষায় আগামীকালের জুমআর বয়ানের শেষ পাঁচ মিনিট মাদ্রাসার জন্য বরাদ্দ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্ট আলেম লেখক মাওলানা সাদিকুর রহমান। সম্মানিত খতীবদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় তিনি এ আহ্বান জানান।
মাওলানা সাদিকুর রহমান বলেন, "যে মাদ্রাসা আপনাকে একজন খতিব হিসেবে গড়ে তুলেছে, সেই মাদ্রাসার আপনার ওপর অনেক হক রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো—মাদ্রাসার অস্তিত্ব রক্ষায় এবং প্রয়োজনের সময় মাদ্রাসার পাশে দাঁড়ানো।" তিনি মুসল্লিদের সর্বোচ্চ মনোযোগের সময়ে বুলেট পয়েন্টে মাদ্রাসাবিরোধী ষড়যন্ত্রের বিষয়গুলো তুলে ধরার অনুরোধ করেন।
প্রতিবেদনে খতীবদের বয়ানের জন্য মূল তিনটি বিষয়ের ওপর ফোকাস করার অনুরোধ জানানো হয়েছে:
১. দেশের স্বার্থ সংরক্ষণ ও দ্বীনি শিক্ষা বিস্তারে মাদরাসার ভূমিকা।
২. অপরাধের বিরুদ্ধে ইসলাম, মাদরাসা ও উলামায়ে কেরামের স্পষ্ট অবস্থান।
৩. সকল ষড়যন্ত্র, বিশেষ করে মিডিয়ার প্রোপাগান্ডা ও মাদ্রাসাবিরোধী প্রচারণার উপযুক্ত জবাব।
বার্তায় বলা হয়, এ দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে সামাজিক, রাষ্ট্রীয়, ধর্মীয়, শিক্ষাব্যবস্থা এবং এতিম, অসহায় ও দরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়নে মাদ্রাসাগুলোর অবদান অনস্বীকার্য।
অপরাধ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিষয়ের তুলনা টেনে তিনি বলেন, "অপরাধী যেই হোক, তার বিচার অবশ্যই হবে। কিন্তু কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে একটি প্রতিষ্ঠানকে আঘাত করা যাবে না। এভাবে আঘাত করতে গেলে আগে বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল-কলেজও বন্ধ করতে হবে।" তিনি পরিসংখ্যান উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশে শিক্ষাঙ্গনে যত অপরাধ সংঘটিত হয়, তার শতভাগের পাঁচ শতাংশও মাদ্রাসায় হয় না। স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধের পর যেখানে প্রতিষ্ঠান বন্ধের দাবি ওঠে না, সেখানে মাদ্রাসায় বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনার কারণে তা বন্ধের দাবি তোলার পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে।
কওমি ও আলিয়া মাদ্রাসার খতীবদের কাদা-ছোড়াছুড়ি ও বিভাজন ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মাওলানা সাদিকুর রহমান বলেন, "এখানে কওমি মাদরাসা কেবল উপলক্ষ মাত্র; মূল লক্ষ্য ইসলাম ও দ্বীনি শিক্ষা। আজ যদি কওমি মাদ্রাসার বিরুদ্ধে কথা বলা হয়, কাল আলিয়া মাদ্রাসার বিরুদ্ধেও বলা হবে। ইসলামবিদ্বেষী ও মাদ্রাসাবিরোধীদের কাছে সব কেবলই 'মাদ্রাসা'। প্রকৃতপক্ষে টার্গেট করা হচ্ছে দ্বীনকেই।"
জনমত গঠনে মসজিদের মিম্বারের অপরিসীম শক্তির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি হিসাব তুলে ধরেন যে, বাংলাদেশে প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ মসজিদ রয়েছে। প্রতিটি মসজিদে গড়ে দুইশ মুসল্লি উপস্থিত থাকলেও এক জুমাতেই প্রায় ৭ কোটি মানুষের কাছে এই সত্য বার্তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। মিড্ডয়ার চেয়েও শক্তিশালী এই মিম্বার থেকে আগামীকালই প্রত্যেক খতিবকে আওয়াজ তোলার জন্য তিনি বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন।