পীরগঞ্জে চার কিলোমিটার কাঁচা রাস্তার দুর্ভোগে ৯ গ্রামের মানুষ, বর্ষায় চরম ভোগান্তি
সাকিব আহসান
প্রতিনিধি, পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার কাস্তোর, সাগুনী, নওপাড়া, বনুয়াপাড়া, বিষ্ণুপুর, চাপড়াগঞ্জ, কেটগাঁও, নাফানগর ও মল্লিকপুর—এই নয়টি গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের নাম চার কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা। বছরের বেশির ভাগ সময়ই চলাচলের অনুপযোগী থাকা এই সড়কটি বর্ষা এলেই কাদা ও পানিতে একেবারে অচল হয়ে পড়ে। ফলে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, রোগী ও সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বহু বছর ধরে সড়কটি পাকা করার দাবি জানানো হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাজুড়ে হাঁটুসমান কাদা জমে যায়। মোটরসাইকেল, ভ্যান কিংবা অটোরিকশা চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। জরুরি রোগী হাসপাতালে নিতে গিয়ে পড়তে হয় চরম বিপাকে। কৃষকরাও সময়মতো উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে না পারায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
কাস্তোর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, "স্বাধীনতার পর থেকে এই রাস্তার তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি। বর্ষা এলেই বাড়ি থেকে বের হওয়া কঠিন হয়ে যায়। একটি পাকা রাস্তা আমাদের বহু বছরের দাবি।"
সাগুনী গ্রামের কৃষক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, "ধান, ভুট্টা ও সবজি বাজারে নিতে গিয়ে পরিবহন খরচ বেড়ে যায়। অনেক চালক এই রাস্তায় আসতেই চান না। এতে কৃষকের লাভ কমে যাচ্ছে।"
বিষ্ণুপুর গ্রামের বাসিন্দা শ্রী সঞ্জয় রায় বলেন, "বৃষ্টি হলে ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পাঠানো যায় না। অসুস্থ মানুষকে হাসপাতালে নেওয়াও কষ্টকর হয়ে পড়ে।"
নাফানগরের গৃহিণী শ্রীমতি অনিতা রাণী বলেন, "গর্ভবতী নারী বা অসুস্থ বৃদ্ধদের নিয়ে বের হওয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। অনেক সময় কাদায় পিছলে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটে।"
মল্লিকপুর গ্রামের ব্যবসায়ী মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, "ব্যবসার মালামাল আনতে অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হয়। অনেক সময় পরিবহন না পাওয়ায় দোকানে পণ্য সংকটও দেখা দেয়।"
চাপড়াগঞ্জ গ্রামের শিক্ষক শ্রী দেবাশীষ চন্দ্র বলেন, "এই সড়কের কারণে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বর্ষাকালে অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারে না। একটি উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা শিক্ষা ব্যবস্থার জন্যও অত্যন্ত জরুরি।"
স্থানীয়দের মতে, এই চার কিলোমিটার রাস্তা পাকা হলে শুধু নয়টি গ্রামের মানুষই নয়, আশপাশের এলাকার বাসিন্দারাও উপকৃত হবেন। কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার বাড়বে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এলাকাবাসী দ্রুত সড়কটি পাকাকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় যোগাযোগ অবকাঠামোর এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি আর অবহেলিত না রেখে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নির্মাণ করা হোক, যাতে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটে এবং নয়টি গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হয়।