ভূরুঙ্গামারীতে সার বিতরণ নিয়ে উত্তেজনা, প্রশাসন-পুলিশের তৎপরতায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি
জাফর আহমেদ, কুড়িগ্রাম জেলা সংবাদদাতা: কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সার বিতরণের স্লিপ দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনা তাৎক্ষণিকভাবে নিয়ন্ত্রণে এনে বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সক্ষম হয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন। সংকটময় মুহূর্তে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলা, তাদের অভিযোগ শোনা এবং নিয়ম মেনে প্রকৃত কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণের আশ্বাস দেওয়ায় পরিস্থিতি দ্রুত শান্ত হয়। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন দায়িত্বশীল ও জনবান্ধব ভূমিকার প্রশংসা করেছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও কৃষকেরা।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বঙ্গ সোনাহাট ইউনিয়নের ব্রিজপাড় এলাকায় মেসার্স আফি সার ঘরের সার ও স্লিপ বিতরণকে কেন্দ্র করে কৃষকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা ভূরুঙ্গামারী–সোনাহাট স্থলবন্দর সড়কে বাঁশ ফেলে ও আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেন। এতে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
খবর পেয়ে ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিম উদ্দিন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তিনি বিক্ষুব্ধ কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে তাদের অভিযোগ ও ক্ষোভের বিষয়গুলো শোনেন এবং ধৈর্য ও বিচক্ষণতার সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কার্যকর ভূমিকা রাখেন। তার তাৎক্ষণিক উপস্থিতি ও দায়িত্বশীল আচরণে উত্তেজনা অনেকটাই প্রশমিত হয়।
পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে কৃষকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। তারা কৃষকদের অভিযোগ শোনার পাশাপাশি নিয়ম মেনে, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় প্রকৃত কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া এই আশ্বাসের পর কৃষকদের মধ্যে আস্থা ফিরে আসে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা স্বউদ্যোগে সড়ক অবরোধ তুলে নিলে ভূরুঙ্গামারী–সোনাহাট স্থলবন্দর সড়কে যান চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হয়।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, সার কৃষকের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপকরণ। ফলে সার বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম, বৈষম্য কিংবা প্রকৃত কৃষক বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলে স্বাভাবিকভাবেই তাদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। তবে প্রশাসন দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে কৃষকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলায় পরিস্থিতি বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নেয়নি।
সচেতন মহল মনে করছেন, কৃষকদের অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে মাঠপর্যায়ে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনের উপস্থিতি এবং পুলিশের ধৈর্যশীল ভূমিকা জনআস্থা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একই সঙ্গে সার বিতরণে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও প্রকৃত কৃষকদের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের উত্তেজনাও অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব হবে।
সংকটময় মুহূর্তে উপজেলা প্রশাসন ও ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপকে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, জনগণের অভিযোগ সরাসরি শুনে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখার এমন সমন্বিত তৎপরতা ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের জনঅসন্তোষ মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।