কটিয়াদীতে দুই বন্ধুর হট্টগোলের পর একজন আহত, অপরজনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
স্টাফ রিপোর্টার: মোঃ অসিম উদ্দিন
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে গভীর রাতে দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধুর মধ্যে হট্টগোলের পর একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এর কিছুক্ষণ পর মসজিদসংলগ্ন একটি কক্ষ থেকে অপর বন্ধুর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত শামীম (২৫) ওই মসজিদের ইমাম ছিলেন। আহত সোহান (২৪) বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চর-ঝাকালিয়া গ্রামের ইছামুদ্দিন সরকার বাড়ি মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শামীম ও সোহান দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। তাঁদের বাড়িও পাশাপাশি। শামীম স্থানীয় ফেকামারা আলিম মাদ্রাসায় পড়াশোনার পাশাপাশি ওই মসজিদে ইমামতি করতেন। সোহানের বাড়ি মসজিদসংলগ্ন এলাকায়। দুজনই অবিবাহিত ছিলেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, মাঝেমধ্যে তাঁরা মসজিদসংলগ্ন একটি ছোট কক্ষে একসঙ্গে রাতযাপন করতেন।
ঘটনার রাতে ওই কক্ষ থেকে হট্টগোলের শব্দ শুনতে পান আশপাশের লোকজন। পরে কয়েকজন সেখানে গিয়ে সোহানকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। তাঁর গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। স্থানীয়দের কাছে সোহান দাবি করেন, শামীম তাঁকে আঘাত করেছেন।
পরে স্থানীয়রা সোহানকে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এদিকে হট্টগোলের খবর পেয়ে শামীমের বাবা ফরিদ মিয়া মসজিদসংলগ্ন ওই কক্ষে যান। সেখানে তিনি ছেলের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে ভোরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত শামীম চর-ঝাকালিয়া গ্রামের ফরিদ মিয়ার ছেলে। আহত সোহান একই গ্রামের মৃত ছইদু মিয়ার ছেলে।
পরিবারের দাবি, মৃত্যুর ঘটনায় রহস্য রয়েছে
শামীমের বাবা ফরিদ মিয়া ও চাচা আবু তাহেরের দাবি, শামীম শান্ত স্বভাবের ছিলেন এবং এলাকায় তাঁর কারও সঙ্গে বিরোধ ছিল না। তাঁদের দাবি, শামীম নিজে আত্মহত্যা করেছেন—এমনটা তাঁরা বিশ্বাস করেন না। ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে বলে তাঁদের সন্দেহ। তাঁরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
আহত সোহানের চাচি স্বপ্না বলেন, হট্টগোলের শব্দ শুনে তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সোহানকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। তাঁর গলা ও শরীরে ক্ষতচিহ্ন ছিল। তখন সোহান দাবি করেন, শামীম তাঁকে আঘাত করেছেন। তবে তাঁদের মধ্যে আগে কোনো বিরোধ ছিল কি না, তা তিনি জানতেন না।
জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, কী কারণে ঘটনাটি ঘটেছে, তা তাঁরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারছেন না। তদন্তের পরই প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।
কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাস্থলের আলামত দেখে শামীম আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
ওসি আরও বলেন, আহত সোহানের জবানবন্দি পাওয়া গেলে ঘটনার বিষয়ে আরও তথ্য জানা যেতে পারে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।