নদীভাঙনে নিঃস্ব বিধবা আছিয়া বেগম, জরাজীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবনযাপন!
শরিফ মিয়া ইসলাম পুর জামাল পুর,,,,
জামালপুরের ইসলামপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর দরিয়াবাদ (ফকিরপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা মৃত আনোয়ার ইসলামের স্ত্রী আছিয়া বেগমের জীবন কাহিনী।
একসময় ছিল সাজানো সংসার, ছিল মাথা গোঁজার ঠাঁই। কিন্তু ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে বসতভিটা হারিয়ে সেই সুখের সংসার আজ শুধুই স্মৃতি। বর্তমানে জরাজীর্ণ ঘরে চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটছে অসহায় এই বিধবা।
নদীভাঙনে সর্বস্ব হারানোর পর থেকেই অভাব-অনটন তাঁর নিত্যসঙ্গী। তার ওপর শারীরিক অসুস্থতা তাঁর জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে। কোমরের হাড় ক্ষয়জনিত সমস্যায় ঠিকমতো হাঁটাচলা করতে পারেন না। চোখে ছানি পড়ায় দৃষ্টিশক্তিও কমে গেছে। ফলে দৈনন্দিন স্বাভাবিক কাজকর্ম করাও তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। জরাজীর্ণ ঘরে অনিশ্চয়তা, অভাব আর সীমাহীন কষ্টের মধ্যেই কাটছে তাঁর দিন।
আছিয়া বেগমের দুই ছেলে ও এক মেয়ের অবস্থাও শোচনীয়। পরিবারের দারিদ্র্য, বসতভিটা হারানোর যন্ত্রণা এবং শারীরিক অসুস্থতা-সব মিলিয়ে অসহায় এই বিধবাটি এখন চরম সংকটের মুখে। তাঁর দুর্দশা লাঘবে কার্যকর সহায়তা না পাওয়ায় ভবিষ্যৎ নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ও অসচ্ছল মানুষের জন্য সরকারি বিভিন্ন সহায়তা ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি রয়েছে। কিন্তু আছিয়া বেগমের মতো একজন অসহায় বিধবা এখনো কেন নিরাপদ বাসস্থান ও প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। তাঁদের দাবি, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।
স্বামীহারা, শারীরিকভাবে অসুস্থ ও নদীভাঙনে সর্বস্বান্ত আছিয়া বেগমের এখন প্রধান চাওয়া-একটি নিরাপদ আশ্রয়, চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং দুবেলা খাবারের নিশ্চয়তা। জীবনের শেষ সময়টুকু অন্তত একটু স্বস্তিতে কাটাতে চান তিনি।
এ অবস্থায় আছিয়া বেগমের দুর্দশা বিবেচনা করে তাঁর পাশে দাঁড়াতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, উপজেলা প্রশাসন, সমাজসেবী সংগঠন ও সমাজের বিত্তবানদের প্রতি মানবিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মোঃ জুবায়ের বলেন, নদীভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে জরাজীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবনযাপনের বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখব। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নিয়ে তাঁর সহায়তায় যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
একটি নিরাপদ ঘর, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সামান্য আর্থিক সহায়তা হয়তো বদলে দিতে পারে আছিয়া বেগমের জীবনের চিত্র।