চিলমারীর চরাঞ্চলে প্রাণ বাঁচাতে চালু হলো ‘নৌকা অ্যাম্বুলেন্স’, জরুরি স্বাস্থ্যসেবায় নতুন আশার আলো
মোঃ জাফর আহমেদ কুড়িগ্রাম জেলা সংবাদদাতাঃ
নদী পেরিয়ে হাসপাতালে পৌঁছাতে দেরি, জরুরি মুহূর্তে নৌযান সংকট আর দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থার কারণে দীর্ঘদিন ধরে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার চরাঞ্চলের মানুষকে। বিশেষ করে মুমূর্ষু রোগী, প্রসূতি মা ও জরুরি চিকিৎসাপ্রয়োজন এমন মানুষের জন্য সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছানো অনেক ক্ষেত্রেই বড় চ্যালেঞ্জ। এমন বাস্তবতায় চরবাসীর দুর্ভোগ লাঘব এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করার লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হলো ‘নৌকা অ্যাম্বুলেন্স’ সেবা। দুর্গম চরাঞ্চলে জীবন রক্ষার এই উদ্যোগকে স্বাস্থ্যসেবাবঞ্চিত মানুষের জন্য আশার নতুন আলো হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
রোববার (২৫ অক্টোবর) চিলমারী উপজেলার ফকিরের হাট খেয়াঘাটে হিউম্যান রিলিফ ফাউন্ডেশনের (HRF) উদ্যোগে এ সেবার উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে HRF-এর বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সচেতন নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নদীবেষ্টিত চিলমারীর চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের অসুস্থতা কিংবা দুর্ঘটনার মতো জরুরি পরিস্থিতিতে হাসপাতালে নিতে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়। নদী পারাপারের জন্য উপযুক্ত নৌযান না পাওয়া, যোগাযোগের সীমাবদ্ধতা এবং সময়ক্ষেপণের কারণে অনেক রোগীকে ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হয়। বিশেষ করে সংকটাপন্ন রোগীদের ক্ষেত্রে সময়মতো চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ পরিস্থিতিতে নৌকা অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালুর ফলে চরাঞ্চলের জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে। দুর্গম এলাকার মানুষের জন্য দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অসহায় পরিবারগুলোর দুর্ভোগ কমাতেও উদ্যোগটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
স্থানীয়দের মতে, চরাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে শুধু উদ্যোগ গ্রহণই যথেষ্ট নয়; সেবাটির নিয়মিত পরিচালনা, জরুরি সময়ে দ্রুত সাড়া দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাও জরুরি। নৌকা অ্যাম্বুলেন্স সেবাটি কার্যকরভাবে চালু রাখা গেলে নদীবেষ্টিত এলাকার মানুষের জীবন রক্ষায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
চিলমারীর মতো নদীঘেরা জনপদে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগ প্রমাণ করে, মানুষের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে নেওয়া কার্যকর পদক্ষেপ দুর্গম জনপদেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে। এখন চরবাসীর প্রত্যাশা—নৌকা অ্যাম্বুলেন্স সেবাটি নিয়মিত ও নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হবে, যাতে জরুরি মুহূর্তে অর্থ বা যোগাযোগের সীমাবদ্ধতার কারণে কাউকে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হতে না হয়।