আদিতমারীতে দেশীয় অস্ত্রের অর্ডার না নেওয়ায় ব্যবসায়ীকে পেটালো যুবকেরা, আদালতে মামলা
লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী বাজারে দেশীয় অস্ত্র তৈরির অর্ডার না নেওয়ায় এক নিরীহ কামার ব্যবসায়ীকে বেদম মারধর, নগদ টাকা ছিনতাই এবং অপহরণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একদল যুবকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মোঃ আলামিন হোসেন (৪০) বাদী হয়ে লালমনিরহাটের বিজ্ঞ দ্রুত বিচার আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার বিবরণ ও আরজি সূত্রে জানা গেছে, আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী গ্রামের মৃত আব্দুল হাইয়ের ছেলে আলামিন হোসেন দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় ভেলাবাড়ী বাজারে কামারের দোকান দিয়ে সততার সাথে ব্যবসা করে আসছিলেন। গত প্রায় ২০ দিন আগে স্থানীয় যুবক মোঃ জুয়েল রানা (২৭), মোঃ জনি মিয়া (২৩), মোঃ রাজিব (২২) ও মোঃ রবিউল ইসলাম (২৭) সহ কয়েকজন আলামিনের দোকানে গিয়ে ২০টি রামদা, ২০টি কুড়াল ও ১০টি বেগি করাতসহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র তৈরির অর্ডার দেয়। নিরীহ কামার ব্যবসায়ী আলামিন এত বিপুল পরিমাণ মারাত্মক অস্ত্র কী উদ্দেশ্যে তৈরি করা হবে জানতে চাইলে যুবকেরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে ধমক দেয়। যুবকদের অন্যায় ও অপরাধমূলক মনোভাব বুঝতে পেরে আলামিন উক্ত অস্ত্রগুলো তৈরি করতে অস্বীকৃতি জানান। এতে যুবকেরা তার ওপর চরম ক্ষুব্ধ হয় এবং দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে যায়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৮ অক্টোবর আনুমানিক রাত ৯টার দিকে ব্যবসায়ী আলামিন হোসেন দিনের ব্যবসা শেষে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এমন সময় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে দা, লোহার রড, ছোরা ও লাঠিসোঁটায় সজ্জিত হয়ে একদল যুবক তার দোকানে চড়াও হয়। দোকানের ভেতরে স্থানীয় মোঃ আফছার আলী ও মোঃ আজিজুলের হুকুমে যুবকেরা আলামিনকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে আলামিনের মুখ ও হাত-পা বেঁধে তাকে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয় এবং তার পকেটে থাকা ব্যবসায়ের ক্যাশ নগদ ৩২,৬০০ (বত্রিশ হাজার ছয়শত) টাকা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে মামলার ৭ নং আসামী মোঃ আফছার আলী অন্য আসামীদের নির্দেশ দিয়ে বলে, ইহাকে আমার চাতালে লইয়া চল, একে মারিয়া লাশ গুম করিয়া ফেলিবো।। তার হুকুম পাওয়া মাত্রই আসামীরা আলামিনকে জোরপূর্বক টেনে-হিঁচড়ে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৩০০ গজ পশ্চিমে আফছারের চাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে পুনরায় লাঠিসোঁটা দিয়ে বেদম প্রহার করা হয়। আলামিনের আর্তচিৎকারে আশেপাশের স্থানীয় লোকজন ও ব্যবসায়ীরা ছুটে এসে আসামীদের কবল থেকে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ভেলাবাড়ী বাজারের একজন পল্লী চিকিৎসকের নিকট তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
আরজিতে বাদী আরও উল্লেখ করেন, ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে আপোষ-মীমাংসার চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ায় এবং আদিতমারী থানা পুলিশ আদালতের মাধ্যমে আইনী পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়ায় মামলা দায়ের করতে সামান্য বিলম্ব হয়। পরবর্তীতে ২৬ অক্টোবর বিজ্ঞ দ্রুত বিচার আদালতে ২০০২ সালের দ্রুত বিচার আইনের ৪/৫ ধারা এবং দণ্ডবিধি আইনের ৩২৩/৩৬৪ ধারায় এই মামলাটি দায়ের করা হয়। বাদী বিজ্ঞ আদালতের কাছে আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারীসহ সুবিচারের আবেদন জানিয়েছেন।
আদিতমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ নাজমুস সাকিব সজীব জানান, আদালতে দায়েরকৃত মামলার কপি ইতোমধ্যে থানায় এসে পৌঁছেছে। বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এছাড়া ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। এ বিষয়ে কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।