শাবিপ্রবিতে চতুর্থ আন্তর্জাতিক গ্রিন আর্কিটেকচার কনফারেন্স শুরু।
আল আমিন সুমন আহমদ
সিলেট প্রতিনিধি
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট-এ ‘Optimised Design for Environment and Sustainable Habitations (DESH)’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ‘চতুর্থ আন্তর্জাতিক গ্রিন আর্কিটেকচার কনফারেন্স (ICGrA 2026)’। আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর ২০২৬) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
শাবিপ্রবির আর্কিটেকচার বিভাগ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর যৌথ ব্যবস্থাপনায় এ কনফারেন্সের আয়োজন করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাবিপ্রবির ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোঃ খায়রুল ইসলাম।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোঃ খায়রুল ইসলাম বলেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন, ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা, বায়ু দূষণ এবং দ্রুত নগরায়নের ফলে আজ মানবজীবন ও প্রকৃতি নানা সংকটের মুখোমুখি। বিশেষ করে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ বাংলাদেশ ও অতিরিক্ত জনবহুল অঞ্চলে এই সংকটগুলো অত্যন্ত তীব্র। তাই পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ঐতিহ্যবাহী নির্মাণশৈলী এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে টেকসই স্থাপত্য গড়ে তোলার ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, গ্রিন আর্কিটেকচার বা সবুজ স্থাপত্য কেবল অভিজাতদের জন্য নয়, বরং তা হতে হবে সবার জন্য সাশ্রয়ী, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সংস্কৃতিবান্ধব। শক্তির সাশ্রয়, প্রাকৃতিক বাতাস চলাচল, নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার এবং পরিবেশ সংরক্ষণের মাধ্যমেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী নিশ্চিত করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. জি এম রবিউল ইসলাম, এপ্লাইড সায়েন্সেস এন্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মস্তাবুর রহমান।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কনফারেন্স চেয়ার বুয়েটের স্থাপত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আশিকুর রহমান জোয়ার্দার। এছাড়া ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন শাবিপ্রবি আর্কিটেকচার বিভাগের প্রধান ও কনফারেন্স কো-চেয়ার স্পপতি ইফতেখার রহমান।
৫ ও ৬ নভেম্বর দিনব্যাপী এ সম্মেলনে দেশি-বিদেশি গবেষক, স্থপতি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলনে যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক কি নোট স্পিকার ও বিশেষজ্ঞরা জলবায়ু নগরায়ন এবং টেকসই বসতি গড়ার ওপর তাঁদের গবেষণা প্রবন্ধ ও মতামত তুলে ধরবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এ ধরনের গবেষণার মাধ্যমে টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে বলে বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।