ভোট আসে, ভোট যায়—অবশেষে স্বাধীনতার পর প্রথম বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত ময়দার বটতলা!
দক্ষিণ বারাসত কাস্টমার কেয়ারের ইনচার্জের উদ্যোগে দীর্ঘদিনের অন্ধকার দূর, খুশিতে আত্মহারা গ্রামবাসীরা
মোমিন আলি লস্কর, জয়নগর:-
ভোট আসে, ভোট যায়। বদলায় জনপ্রতিনিধি, হয় সরকারের পালাবদল। কিন্তু স্বাধীনতার এত বছর পরও বিদ্যুতের আলো পৌঁছায়নি দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগর বিধানসভার অন্তর্গত জয়নগর ২ নম্বর ব্লকের ময়দা অঞ্চলের জীবনমণ্ডল হাট সংলগ্ন বটতলা এলাকার একটি পাড়ায়। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় অন্ধকারের মধ্যেই দিন কাটাতে হয়েছে ওই এলাকার বাসিন্দাদের।
অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে শুভ দীপাবলির প্রাক্কালে বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হলো বটতলা সংলগ্ন ওই পাড়া। স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনায় খুশির জোয়ার বইছে গোটা এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগে ওই এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের খবর পৌঁছায় জয়নগর ডিভিশনের অধীন দক্ষিণ বারাসত ইলেকট্রিক কাস্টমার কেয়ারের ইনচার্জ রামকৃষ্ণ মণ্ডলের কাছে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি কালবিলম্ব না করে নিজের দপ্তরের কর্মীদের নিয়ে সরেজমিনে এলাকায় উপস্থিত হন। গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের দীর্ঘদিনের সমস্যার কথা শোনেন। বিদ্যুৎ পরিষেবা না থাকায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের চিত্র দেখে তিনি বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেন।
এরপর জয়নগর ডিভিশনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত ওই এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। পাশাপাশি গ্রামবাসীদের আশ্বাস দেন, খুব শীঘ্রই তাঁদের পাড়ায় বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হবে।
অবশেষে সেই প্রতিশ্রুতিও বাস্তবে রূপ পেল। দক্ষিণ বারাসত কাস্টমার কেয়ারের ইলেকট্রিক ইনচার্জের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা, জয়নগর ডিভিশনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সহযোগিতায় তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ পরিকাঠামো নির্মাণের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হয়। এর ফলে ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা চালু হয়েছে।
দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় এলাকার সাধারণ মানুষ অত্যন্ত আনন্দিত। বিশেষ করে দীপাবলির শুভলগ্নে বিদ্যুতের আলো পাওয়ায় তাঁদের আনন্দ যেন কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে।
এই মহতী উদ্যোগের জন্য দক্ষিণ বারাসত ইলেকট্রিক কাস্টমার কেয়ারের ইনচার্জ রামকৃষ্ণ মণ্ডলসহ জয়নগর ডিভিশনের উচ্চপদস্থ আধিকারিক এবং সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎকর্মীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা, অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন এলাকাবাসীরা। পাশাপাশি তাঁদের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনাও করেছেন।
দীর্ঘদিনের অন্ধকার কাটিয়ে বটতলায় বিদ্যুতের আলো—গ্রামবাসীদের কাছে এবারের দীপাবলিতে এর চেয়ে বড় উপহার আর কী হতে পারে!