
সত্যের সন্ধানে নির্ভীক এক তরুণ
মহম্মদপুরে সাহসী সাংবাদিকতায় আলো ছড়াচ্ছেন মোঃ ফয়সাল হায়দার
ইমন মাগুরা,মহম্মদপুর প্রতিনিধি
সংবাদপত্র কিংবা অনলাইন গণমাধ্যমে একটি সংবাদ প্রকাশের পেছনে কতটা পরিশ্রম, ঝুঁকি এবং দায়িত্ববোধ কাজ করে—তা অনেকেরই অজানা। বিশেষ করে মফস্বল সাংবাদিকতায় প্রতিদিন অসংখ্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে কাজ করতে হয় সংবাদকর্মীদের। আর সেই চ্যালেঞ্জকে সাহসিকতার সঙ্গে মোকাবিলা করে এগিয়ে চলেছেন মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার তরুণ সাংবাদিক মোঃ ফয়সাল হায়দার।
বর্তমানে তিনি জাতীয় “দৈনিক খবরের আলো” পত্রিকায় স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা, জনদুর্ভোগ, অনিয়ম ও মানবিক সংকট নিয়ে নিয়মিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরি করে ইতোমধ্যে পাঠকমহলে নিজের একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন।
অল্প বয়সেই সাংবাদিকতাকে নিজের পেশা ও সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করেছেন তিনি। স্থানীয় মানুষের নানা সমস্যা, অবহেলা, অনিয়ম, দুর্নীতি, জনদুর্ভোগ ও মানবিক সংকটের বিষয়গুলো সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরতে প্রতিনিয়ত মাঠে কাজ করছেন এই তরুণ সংবাদকর্মী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহম্মদপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘটে যাওয়া ঘটনা দ্রুত সংবাদ আকারে প্রকাশের মাধ্যমে ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন মোঃ ফয়সাল হায়দার। বিশেষ করে রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থা, সরকারি সেবায় অনিয়ম, অসহায় মানুষের দুর্ভোগ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতের সীমাবদ্ধতা, পরিবেশ দূষণ এবং সামাজিক অসঙ্গতি নিয়ে তার ধারাবাহিক প্রতিবেদন স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সংবাদ সংগ্রহের জন্য তাকে প্রায়ই গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করতে হয়। দুর্ঘটনা, অগ্নিকাণ্ড, সংঘর্ষ কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগের খবর পেলেই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তথ্য সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি। অনেক সময় প্রতিকূল পরিবেশ, দূরবর্তী গ্রামাঞ্চল কিংবা যোগাযোগ সংকট থাকা সত্ত্বেও দায়িত্ব পালন থেকে পিছপা হন না।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি প্রতিবেদনের মাধ্যমে এলাকায় নানা অনিয়ম ও জনদুর্ভোগের বিষয় প্রশাসনের নজরে আসে। স্থানীয়দের দাবি, তার কিছু অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসে এবং বেশ কয়েকটি সমস্যার সমাধানেও উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, সংবাদ সংগ্রহের সময় তিনি সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করেন। নিরাপত্তা হেলমেট, ক্যামেরা, মাইক ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে মাঠে কাজ করতে দেখা যায় তাকে। তথ্য যাচাই-বাছাই করে দ্রুত সংবাদ প্রকাশের বিষয়ে তিনি সবসময় সচেতন।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, বর্তমানে তরুণদের একটি বড় অংশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করলেও মোঃ ফয়সাল হায়দার ব্যতিক্রমধর্মী উদাহরণ তৈরি করেছেন। সমাজের সমস্যা তুলে ধরে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
এলাকার সচেতন মহল মনে করেন, মফস্বল সাংবাদিকতা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং একটি পেশা। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও যারা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কাজ করেন, তাদের উৎসাহ ও সহযোগিতা করা প্রয়োজন। তাদের মতে, তরুণ সাংবাদিক মোঃ ফয়সাল হায়দারের সাহসী ও দায়িত্বশীল ভূমিকা ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
শুধু সাংবাদিকতাই নয়, বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে দেখা যায় তাকে। দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের সহায়তা করা, অসহায় মানুষের সমস্যা প্রশাসনের নজরে আনা, সামাজিক সচেতনতা তৈরি এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে কাজ করার কারণে ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন তিনি।
এ বিষয়ে মোঃ ফয়সাল হায়দার বলেন, আমি বিশ্বাস করি, সাংবাদিকতা শুধু খবর প্রকাশের কাজ নয়; এটি মানুষের অধিকার, ন্যায়বিচার ও সত্যের পক্ষে কথা বলার একটি শক্তিশালী মাধ্যম। আমি চাই সমাজের বাস্তব সমস্যাগুলো তুলে ধরে মানুষের উপকারে আসতে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান সময়ে দায়িত্বশীল ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার প্রয়োজনীয়তা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। আর সেই জায়গা থেকে তরুণ সাংবাদিক মোঃ ফয়সাল হায়দারের মতো সংবাদকর্মীরা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা বহন করছেন।
পরিশেষে বলা যায়, প্রতিকূলতা পেরিয়ে সত্য প্রকাশের প্রত্যয়ে এগিয়ে চলা এই তরুণ সাংবাদিকের পথচলা শুধু মহম্মদপুর নয়, পুরো মাগুরার তরুণ সমাজের জন্যও অনুপ্রেরণার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।





