
মোড়েলগঞ্জে সেচ ব্লকের তিন ট্রান্সফরমার চুরি, ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী
আকরাম হোসেন
বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি
বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলা-এর ৩ নং পুটিখালী ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের গজালিয়া গ্রামে সংঘবদ্ধ চোরচক্রের তৎপরতায় চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। গত ১৩ মে ২০২৬ রাতের কোনো এক সময় গজালিয়া বড় মাঠের সরকারি সেচ ব্লকের লাইনের তিনটি ট্রান্সফরমার ভেঙে ভেতরের মূল্যবান যন্ত্রাংশ নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে খালি খোসাগুলো ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে যায় তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি এই সেচ ব্লকের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করে এলাকার কৃষিজীবী মানুষ দীর্ঘদিন ধরে উপকৃত হয়ে আসছিলেন। ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।
ঘটনার পর গ্রাম পুলিশ প্রধান নাসির তালুকদার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় ধারাবাহিকভাবে চুরি ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড বেড়ে চললেও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও ক্ষোভ বাড়ছে।
এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা মনে করেন, ট্রান্সফরমার চুরি কোনো সাধারণ চোরের পক্ষে সম্ভব নয়। এটি প্রশিক্ষিত বা অভিজ্ঞ চক্রের কাজ বলে তাদের ধারণা। তারা বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও কঠোর নজরদারি না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অপরাধ সংঘটিত হতে পারে।
স্থানীয়রা জানান, এর আগেও গজালিয়া গ্রামে একাধিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। দরিদ্র ভ্যানচালক এনসান শেখের ঘর থেকে নগদ ৭৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার চুরি হয়। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি এখনো তার চুরি যাওয়া সম্পদের কোনো সন্ধান কিংবা বিচার পাননি।
এছাড়া ব্যবসায়ী গাউসুল হকের বাড়িতেও চুরির ঘটনা ঘটে। তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গেলে সুযোগ বুঝে দুর্বৃত্তরা তার বাড়িতে ঢুকে আসবাবপত্র ও মোটর চুরি করে নিয়ে যায়।
অন্যদিকে, এবি গজালিয়া বাজারেও এক রাতে একযোগে তিন থেকে চারটি দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার পর এলাকাবাসীর দাবি, একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্র দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সক্রিয় রয়েছে।
স্থানীয় জনগণ মোড়েলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন-এর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে চোরচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।





