
গাইবান্ধায় অবৈধ ইটভাটায় জেলা প্রশাসনের অভিযান, গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো চিমনি-কিলন
গাইবান্ধা থেকে মোঃ আবু জাফর মন্ডলঃ
পরিবেশ দূষণ রোধ, কৃষিজমি সুরক্ষা এবং অবৈধভাবে পরিচালিত ইটভাটার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসন। জেলার বিভিন্ন স্থানে লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় পরিবেশগত অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন এলাকায় বৈধ ছাড়পত্র ও পরিবেশগত অনুমোদন ছাড়াই বেশ কিছু ইটভাটা পরিচালিত হয়ে আসছিল। এসব ইটভাটা আবাসিক এলাকা ও ফসলি জমির আশপাশে গড়ে ওঠায় পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি কৃষিজমির ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ছিল।
অভিযানে জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সমন্বয়ে যৌথ দল অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় স্কেভেটর (ভেকু) দিয়ে অবৈধ ইটভাটার চিমনি ও কিলন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি ভাটায় মজুত ও প্রস্তুত করা কাঁচা-পাকা ইটও ধ্বংস করা হয়।
অভিযানকালে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন অনুযায়ী কয়েকটি ইটভাটার মালিককে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে কয়েকটি অবৈধ ইটভাটা স্থায়ীভাবে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযান চলাকালে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে জেলা প্রশাসক বলেন, “পরিবেশ রক্ষা এবং কৃষিজমি বাঁচানো আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার। লাইসেন্সবিহীন ও নিয়মবহির্ভূতভাবে গড়ে ওঠা কোনো অবৈধ ইটভাটা গাইবান্ধায় চলতে দেওয়া হবে না। পরিবেশ দূষণকারী এসব ভাটার বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের কঠোর অবস্থান ও অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে আবাসিক এলাকা ও ফসলি জমির আশপাশে ইটভাটা পরিচালনার কারণে ধোঁয়া, কালো ধোঁয়া ও ধুলাবালিতে তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল। জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে এমন অভিযান পরিচালিত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
পরিবেশ ও কৃষিজমি রক্ষায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও তদারকি অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।





