বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৪ অপরাহ্ন [gtranslate]
ব্রেকিং নিউজঃ
আদিতমারীতে দেশীয় অস্ত্রের অর্ডার না নেওয়ায় ব্যবসায়ীকে পেটালো যুবকেরা, আদালতে মামলা বরুড়া পিতা হত্যায় পুত্র আটক ঠাকুর গাঁও ০১ আসনের বিভিন্ন ভোট কেন্দ্র পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক জনাব মোহাম্মদ রফিকুল হকঃ ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগনজ উপজেলার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ১৭ নেতাকর্মীকে আদালতের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশঃ প্রতিষ্ঠাতার নাম মুছে ফেলা হলো, এতদিনেও কি প্রশাসনের চোখে পড়ল না পলাশবাড়ীতে এডিপির প্রকল্প বাস্তবায়নে তদারকি, তদন্ত কমিটি গঠনের আশ্বাস গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের চলমান সংকট নিরসন করা সম্ভব নয় শরীয়তপুরের যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত জবির বাসে সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ, সমঝোতায় শেষ ঘটনা নোবিপ্রবিতে ছাত্রশক্তির উদ্যোগে নবীনবরণ, থাকছেন নাহিদ ইসলামসহ এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা
বিজ্ঞপ্তিঃ
ব্রেকিং নিউজ*** দেশও বিদেশ খবর পেতে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন।*বিজয় ২৪ টিভি  খবর ও বিজ্ঞাপন প্রচার করতে  যোগাযোগ করুন:gmail :bijoy24tv2024@gmail.com* হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার ০১৭৪৩৮৮৯০৬৮।*সবার পাশে Bijoy 24 TV* আপনারা দেখছেন বিজয় ২৪ টিভি ধন্যবাদ।
প্রতিষ্ঠাতার নাম মুছে ফেলা হলো, এতদিনেও কি প্রশাসনের চোখে পড়ল না
/ ২৫ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৪ অপরাহ্ন

প্রতিষ্ঠাতার নাম মুছে ফেলা হলো, এতদিনেও কি প্রশাসনের চোখে পড়ল না

রামকৃষ্ণ সাহা রামা টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি

জন্মভূমির প্রতি মানুষের টান কখনো মুছে যায় না। জীবনের প্রয়োজনে মানুষ দূরে থাকে, সময়ের ব্যবধানে পরিচিত পথঘাট বদলে যায়, শৈশব-কৈশোরের স্মৃতিবিজড়িত অনেক কিছুই হারিয়ে যায়। তবু জন্মভূমিতে ফিরে গেলে হৃদয়ের গভীরে এক অন্য রকম অনুভূতি জেগে ওঠে। সেই অনুভূতির সঙ্গে যখন জড়িয়ে থাকে কোনো অনিয়ম, অবহেলা কিংবা ইতিহাস মুছে ফেলার দৃশ্য, তখন আনন্দের জায়গায় জন্ম নেয় বেদনা, ক্ষোভ ও অসংখ্য প্রশ্ন। সম্প্রতি অনেক দিন পর টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর উপজেলার গয়হাটা গ্রামে গিয়েছিলাম। গয়হাটা আমার জন্মভূমি। এই মাটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমার শৈশব, কৈশোর, স্মৃতি ও আত্মপরিচয়। দীর্ঘদিন পর নিজের এলাকায় ফিরে পরিচিত পরিবেশের সঙ্গে মিলিত হওয়ার আনন্দ ছিল। কিন্তু সেই আনন্দের মধ্যেই একটি দৃশ্য আমাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। গয়হাটা শহীদ শামসউদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে প্রতিষ্ঠাতার নাম মুছে ফেলা অবস্থায় দেখতে পেলাম। ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন মরহুম আফাজ উদ্দিন। একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা নিছক একটি ভবন নির্মাণের কাজ নয়। এর পেছনে থাকে স্বপ্ন, শ্রম, ত্যাগ, অর্থ, সময় এবং একটি জনপদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শিক্ষিত করে তোলার প্রত্যয়। যে মানুষটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তাঁর নাম সেই প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ হওয়ার কথা। অথচ বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে সেই প্রতিষ্ঠাতার নাম মুছে ফেলা হয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও নামটি পুনঃস্থাপনের দৃশ্যমান উদ্যোগ চোখে পড়েনি। প্রশ্ন হচ্ছে, কে বা কারা প্রতিষ্ঠাতার নাম মুছে ফেলেছেন? কখন এই কাজ করা হয়েছে? কী উদ্দেশ্যে করা হয়েছে? কোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে, নাকি ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত বিদ্বেষ থেকে? এসব প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। স্থানীয় পর্যায়ে ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা থাকলেও প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে কার্যকর তদন্ত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য নেই। স্থানীয়ভাবে জানা যায়, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার অল্প কিছুদিন আগে ঘটনাটি ঘটেছিল। তবে সুনির্দিষ্ট তারিখ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় কিংবা ঘটনার উদ্দেশ্য নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। কিন্তু সময়ের এই প্রেক্ষাপট ঘটনাটিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। কোনো রাজনৈতিক পরিবর্তন, মতাদর্শগত বিরোধ কিংবা ব্যক্তিগত ক্ষোভের কারণে যদি কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতার নাম মুছে ফেলা হয়ে থাকে, তবে তা শুধু অনভিপ্রেত নয়, নৈতিকভাবেও প্রশ্নবিদ্ধ। একটি বিদ্যালয় কোনো ব্যক্তি, পরিবার, রাজনৈতিক দল কিংবা গোষ্ঠীর একক সম্পত্তি নয়। এটি একটি জনপদের সম্মিলিত অর্জন। এখানে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা গ্রহণ করে, শিক্ষকরা মানুষ গড়ার দায়িত্ব পালন করেন, অভিভাবকেরা সন্তানদের ভবিষ্যৎ নির্মাণের স্বপ্ন দেখেন। বিদ্যালয়ের সঙ্গে এলাকার মানুষের আবেগ, ইতিহাস ও সামাজিক পরিচয় জড়িয়ে থাকে। ফলে কোনো প্রতিষ্ঠাতার নাম মুছে ফেলা মানে সেই প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে আড়াল করার চেষ্টা করা। কিন্তু এই ঘটনার চেয়েও বড় প্রশ্ন হচ্ছে, এত দিনেও বিষয়টি সমাধান হলো না কেন? বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক এমন কোনো গোপন স্থান নয়, যেখানে দিনের পর দিন কী লেখা আছে, তা কারও চোখে পড়ার কথা নয়। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এবং স্থানীয় মানুষ এই ফটকের সামনে দিয়ে যাতায়াত করেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষকমণ্ডলী প্রতিষ্ঠানটির দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করেন। পরিচালনা পর্ষদ প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ ও ঐতিহ্য রক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত। অন্যদিকে, শিক্ষা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনেরও নিজ নিজ এখতিয়ার অনুযায়ী তদারকি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দায়িত্ব রয়েছে। তাহলে প্রতিষ্ঠাতার নাম মুছে ফেলার বিষয়টি এতদিন ধরে অমীমাংসিত অবস্থায় পড়ে থাকল কীভাবে? প্রধান শিক্ষক কি বিষয়টি জানতেন? পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি? সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তাদের কেউ বিদ্যালয় পরিদর্শনে এসে বিষয়টি দেখেছেন কি? উপজেলা প্রশাসনের কাছে এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ বা প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছিল কি? যদি দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে তার ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে? এসব প্রশ্নের উত্তর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই দিতে হবে। এখানে কাউকে আগেভাগে অপরাধী ঘোষণা করার উদ্দেশ্য নেই। বরং প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন এবং দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি নির্ধারণ করাই হওয়া উচিত প্রধান লক্ষ্য। প্রতিষ্ঠাতার নাম কে মুছে ফেলেছেন, তা যেমন জানা জরুরি, তেমনি ঘটনার পর দীর্ঘ সময় ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কেন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি, সেটিও সমান গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন। কারণ, কোনো অন্যায় সংঘটিত হওয়ার জন্য যারা সরাসরি দায়ী, তাদের পাশাপাশি দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নিষ্ক্রিয়তা বা অবহেলাও কখনো কখনো অন্যায়কে দীর্ঘস্থায়ী করে তোলে। অবশ্যই, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানত কি না এবং তাদের ওপর কী ধরনের দায়িত্ব বর্তেছিল, তা প্রমাণের ভিত্তিতে নির্ধারণ করতে হবে। কিন্তু দায়িত্বের প্রশ্নটি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। প্রশাসনের দায়িত্ব কেবল অভিযোগ গ্রহণ কিংবা কাগজে-কলমে নির্দেশনা জারি করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ, শৃঙ্খলা, ঐতিহ্য এবং প্রযোজ্য বিধিবিধান অনুযায়ী পরিচালনা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হয়। কোথাও অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা যাচাই করা, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা তাদের কাজের অংশ। গয়হাটা শহীদ শামসউদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে প্রতিষ্ঠাতার নাম মুছে ফেলার ঘটনা সেই দায়িত্ব পালনের প্রশ্নটিকেই সামনে এনেছে। যদি ঘটনাটি দীর্ঘদিন ধরে দৃশ্যমান অবস্থায় থেকে থাকে, তাহলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, পরিচালনা পর্ষদ এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসনের ভূমিকা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। উপজেলা প্রশাসনেরও উচিত, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে কি না এবং এ বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট করা। একটি বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক শুধু প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ নয়; এটি প্রতিষ্ঠানের পরিচয় বহন করে। সেখানে প্রতিষ্ঠাতার নাম থাকা মানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জানিয়ে দেওয়া—এই প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পেছনে কার অবদান রয়েছে। সেই নাম মুছে যাওয়ার পরও যদি কেউ বিষয়টি গুরুত্ব না দেন, তাহলে তা প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাস সংরক্ষণে দায়িত্বশীলতার ঘাটতির ইঙ্গিত দিতে পারে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দিলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। তাদের সত্য, ন্যায়, সততা, শ্রদ্ধাবোধ ও ইতিহাসের প্রতি দায়বদ্ধতার শিক্ষাও দিতে হয়। অথচ যে প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা এসব মূল্যবোধ শেখার কথা, সেই প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতার নাম মুছে ফেলার ঘটনা দীর্ঘদিন অমীমাংসিত থাকলে তা কী বার্তা দেয়? আমরা কি শিক্ষার্থীদের শেখাচ্ছি যে অবদানকে সম্মান করতে হয়, নাকি নীরবতার সুযোগে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ মুছে ফেলা যায়? এই প্রশ্নের উত্তর শুধু গয়হাটা শহীদ শামসউদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়ের জন্য নয়, দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। আমি নাগরপুর উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। বিষয়টিকে কোনো সাধারণ নামফলকসংক্রান্ত সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতার অবদান, ঐতিহাসিক পরিচয় এবং প্রশাসনিক জবাবদিহির সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই দ্রুত একটি নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা প্রয়োজন। এই তদন্তের কাজ হওয়া উচিত কয়েকটি বিষয়কে কেন্দ্র করে। প্রথমত, বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে প্রতিষ্ঠাতা মরহুম আফাজ উদ্দিনের নাম কে বা কারা মুছে ফেলেছে, তা শনাক্ত করতে হবে। ঘটনার সময়, উদ্দেশ্য এবং এর পেছনে কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তা প্রমাণের ভিত্তিতে নির্ধারণ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, পরিচালনা পর্ষদের সংশ্লিষ্ট সদস্য, শিক্ষকমণ্ডলী এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা কখন বিষয়টি জানতে পেরেছেন, তা খতিয়ে দেখতে হবে। তাঁদের কাছে কোনো অভিযোগ করা হয়েছিল কি না, সভায় বিষয়টি উত্থাপিত হয়েছিল কি না এবং এ বিষয়ে কোনো লিখিত সিদ্ধান্ত বা নথি রয়েছে কি না, সেগুলো পরীক্ষা করা প্রয়োজন। তৃতীয়ত, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রশাসনের ভূমিকা পর্যালোচনা করতে হবে। তাঁদের দায়িত্বের আওতায় বিষয়টি পড়েছিল কি না, পরিদর্শনের সময় এটি নজরে আসার কথা ছিল কি না এবং কোনো তথ্য পাওয়ার পরও ব্যবস্থা না নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে কি না, তা যাচাই করতে হবে। চতুর্থত, তদন্তে যাঁদের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে নাম মুছে ফেলা, ক্ষমতার অপব্যবহার, দায়িত্বে অবহেলা কিংবা প্রযোজ্য বিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাঁদের বিরুদ্ধে আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে তদন্তের সুপারিশ বাস্তবায়ন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। পঞ্চমত, তদন্ত চলাকালেই বিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক পরিচয় ও প্রতিষ্ঠাতার অবদান যথাযথভাবে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া উচিত। প্রতিষ্ঠাতার নামের সঠিক বানান ও পরিচয় প্রামাণ্য নথির ভিত্তিতে নিশ্চিত করে প্রধান ফটকে তা পুনঃস্থাপনের ব্যবস্থা করতে হবে। তবে নাম পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ যেন ঘটনার তদন্ত ও দায় নির্ধারণের বিকল্প হয়ে না দাঁড়ায়। মরহুম আফাজ উদ্দিন আজ বেঁচে নেই। কিন্তু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে তিনি যে অবদান রেখে গেছেন, তা তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে শেষ হয়ে যাওয়ার কথা নয়। প্রজন্মের পর প্রজন্ম তাঁর প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করবে। তাদের অনেকেই সমাজ, দেশ ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবে। সেই শিক্ষার্থীদের জানা উচিত, তাদের বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পেছনে কার অবদান ছিল। একজন প্রতিষ্ঠাতার নাম মুছে ফেললেই তাঁর অবদান মুছে যায় না। কিন্তু নামটি মুছে যাওয়ার পরও যদি সমাজ নীরব থাকে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব এড়িয়ে যায় এবং প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে ইতিহাস সংরক্ষণের দায়িত্ববোধই প্রশ্নের মুখে পড়ে। গয়হাটা আমার জন্মভূমি। এই জনপদের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি আমার দায়বদ্ধতা রয়েছে। সেই দায়বদ্ধতা থেকেই বিষয়টি তুলে ধরছি। কারও প্রতি ব্যক্তিগত বিদ্বেষ থেকে নয়, বরং সত্য উদ্ঘাটন, ন্যায়বিচার এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার স্বার্থে। নাগরপুর উপজেলা প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসন, বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদ ও প্রধান শিক্ষকের কাছে আমার স্পষ্ট দাবি—আর কালক্ষেপণ নয়। দ্রুত তদন্ত শুরু করুন। কে প্রতিষ্ঠাতার নাম মুছে ফেলেছে, তা বের করুন। কেন এতদিনেও নামটি পুনঃস্থাপন করা হয়নি, তার জবাবদিহি নিশ্চিত করুন। দায়িত্বে অবহেলা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিন। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে প্রতিষ্ঠাতা মরহুম আফাজ উদ্দিনের নাম যথাযথ মর্যাদায় পুনঃস্থাপন করুন। শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরুন তাঁদের প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত ইতিহাস। কারণ, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ইতিহাস রক্ষা করা মানে শুধু অতীতকে সম্মান করা নয়; ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সত্য ও দায়িত্বশীলতার শিক্ষা পৌঁছে দেওয়া। গয়হাটা শহীদ শামসউদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে প্রতিষ্ঠাতার নাম মুছে যাওয়ার ঘটনা তাই আর অবহেলার বিষয় হয়ে থাকতে পারে না। প্রশ্ন একটাই—প্রতিষ্ঠাতার নাম মুছে ফেলার দায় কার, আর এত দিন ধরে সেই নাম ফিরিয়ে না দেওয়ার দায় কার? নাগরপুর উপজেলা প্রশাসন ও বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদকে এই প্রশ্নের জবাব দিতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Our Like Page

Archive Calendar

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
Verified by MonsterInsights