মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৫:১১ অপরাহ্ন [gtranslate]
ব্রেকিং নিউজঃ
জরুরী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি: কোম্পানি: মাসুদ এগ্রো ফুড লিমিটেড, হিনতা। দ্বিতীয় স্ত্রীর বিচ্ছেদ সইতে না পেরে ইউপি সদস্যের আত্মহত্যা পেশাজীবী গাড়ি চালকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত ঠাকুর গাঁও এ ট্রাক ভর্তি সার জব্দঃ পানির সাথে বাড়ছে চায়না দুয়ারি জাল, সালথায় হুমকিতে দেশীয় মাছ দক্ষিণ গফরগাঁওয়ের উস্থি ইউনিয়নে নাতিকে মারধর থেকে বাঁচাতে গিয়ে বৃদ্ধ দাদার মৃত্যু। সাংবাদিক সুরুজ আলীর অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি। দায়িত্বশীলদের দক্ষতা ও সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে ঠাকুরগাঁওয়ে ছাত্রশিবিরের কর্মশালা অনুষ্ঠিত জরুরি মেশিন বিক্রয় বর্ণাঢ্য আয়োজনে মধ্য দিয়ে বীরগঞ্জ মডেল প্রেসক্লাবের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন
বিজ্ঞপ্তিঃ
ব্রেকিং নিউজ*** দেশও বিদেশ খবর পেতে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন।*বিজয় ২৪ টিভি  খবর ও বিজ্ঞাপন প্রচার করতে  যোগাযোগ করুন:gmail :bijoy24tv2024@gmail.com* হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার ০১৭৪৩৮৮৯০৬৮।*সবার পাশে Bijoy 24 TV* আপনারা দেখছেন বিজয় ২৪ টিভি ধন্যবাদ।
পীরগঞ্জের রাজনৈতিক কাঠামো কি ক্রোনি ক্যাপিটালিজম থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে?
/ ২৫ Time View
Update : সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ৯:২১ অপরাহ্ন

পীরগঞ্জের রাজনৈতিক কাঠামো কি ক্রোনি ক্যাপিটালিজম থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে?

সাকিব আহসান
প্রতিবেদক,পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও

বাংলাদেশের স্থানীয় রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বাস্তবতা হলো ক্ষমতা, অর্থ এবং প্রভাবের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা। এই বাস্তবতা জাতীয় পর্যায়ে যেমন বিদ্যমান, তেমনি স্থানীয় সরকার ও উপজেলা রাজনীতিতেও এর প্রভাব স্পষ্ট। ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার রাজনৈতিক কাঠামোকে ঘিরেও দীর্ঘদিন ধরে এমন প্রশ্ন উঠে আসছে রাজনীতি কি জনস্বার্থের জন্য পরিচালিত হচ্ছে, নাকি একটি সীমিত সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার মাধ্যম হয়ে উঠছে? এই প্রেক্ষাপটে “ক্রোনি ক্যাপিটালিজম” বা স্বজনপ্রীতিনির্ভর অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় আসে।
ক্রোনি ক্যাপিটালিজম বলতে এমন একটি ব্যবস্থাকে বোঝায় যেখানে রাজনৈতিক ক্ষমতার কাছাকাছি থাকা ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বিশেষ সুবিধা লাভ করে। সরকারি প্রকল্প, ঠিকাদারি, নিয়োগ, ব্যবসায়িক সুযোগ কিংবা প্রশাসনিক প্রভাব সবকিছুতে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর আধিপত্য তৈরি হয়। ফলে প্রতিযোগিতা, জবাবদিহি ও জনস্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পীরগঞ্জের রাজনৈতিক বাস্তবতায় স্থানীয় নির্বাচন, উন্নয়ন প্রকল্প এবং সামাজিক নেতৃত্বের ক্ষেত্রে এমন প্রবণতার অভিযোগ নতুন নয়। বিভিন্ন সময় দেখা গেছে, রাজনৈতিক পরিচয় বা ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে প্রভাব বিস্তার করছে বলে জনমনে ধারণা তৈরি হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের সবগুলো প্রমাণিত নয়, তবুও জনপরিসরে এ নিয়ে আলোচনা ক্রমশ বাড়ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় পর্যায়ে ক্রোনি ক্যাপিটালিজমের সবচেয়ে বড় ক্ষতি হলো যোগ্য নেতৃত্বের বিকাশ ব্যাহত হওয়া। যখন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে দক্ষতা ও জনপ্রিয়তার চেয়ে ব্যক্তিগত সম্পর্ক বেশি গুরুত্ব পায়, তখন নতুন নেতৃত্বের উত্থান কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে রাজনীতিতে প্রতিযোগিতা কমে যায় এবং একই ধরনের প্রভাবশালী গোষ্ঠীর কর্তৃত্ব দীর্ঘস্থায়ী হয়।
ইতিহাস বলছে, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ক্রোনি ক্যাপিটালিজম অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার অন্যতম কারণ হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশে ১৯৯০-এর দশকের অর্থনৈতিক সংকটের সময় রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতানির্ভর ব্যবসায়িক কাঠামোকে বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। কারণ বাজারের স্বাভাবিক প্রতিযোগিতার পরিবর্তে ক্ষমতার ঘনিষ্ঠতা যখন সফলতার মাপকাঠি হয়ে ওঠে, তখন প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে।
তবে প্রশ্ন হলো, পীরগঞ্জ কি এই চক্র থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে?
এর উত্তর নির্ভর করছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর।
প্রথমত, স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র শক্তিশালী হতে হবে। নেতৃত্ব নির্বাচন যদি অংশগ্রহণমূলক হয় এবং তৃণমূলের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়, তাহলে সীমিত গোষ্ঠীকেন্দ্রিক প্রভাব কমতে পারে।
দ্বিতীয়ত, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়াতে হবে। উন্নয়ন প্রকল্প, বরাদ্দ এবং সরকারি সুবিধা বণ্টনের তথ্য জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হলে রাজনৈতিক প্রভাবের অপব্যবহার কমানো সম্ভব।
তৃতীয়ত, নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম এবং সচেতন ভোটারদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এবং সামাজিক নজরদারি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থের অস্বচ্ছ সম্পর্ককে প্রকাশ্যে আনতে সহায়তা করতে পারে। এতে জনপ্রতিনিধিদের ওপর জবাবদিহির চাপ বৃদ্ধি পায়।
চতুর্থত, তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ানো প্রয়োজন। নতুন প্রজন্ম যদি ব্যক্তি-নির্ভর রাজনীতির পরিবর্তে নীতি ও কর্মসূচিভিত্তিক রাজনীতিকে গুরুত্ব দেয়, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।
তবে বাস্তবতা হলো, কোনো রাজনৈতিক কাঠামো একদিনে পরিবর্তিত হয় না। পীরগঞ্জেও ক্ষমতা ও প্রভাবের দীর্ঘদিনের নেটওয়ার্ক রাতারাতি ভেঙে যাবে এমন আশা বাস্তবসম্মত নয়। কিন্তু জনসচেতনতা, তথ্যপ্রযুক্তির বিস্তার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নাগরিক পর্যবেক্ষণ এবং অধিকতর রাজনৈতিক জবাবদিহি একটি নতুন পরিস্থিতি তৈরি করছে।
অতএব, পীরগঞ্জের রাজনৈতিক কাঠামো ক্রোনি ক্যাপিটালিজম থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে পারবে কি না, তার নিশ্চিত উত্তর এখনই দেওয়া সম্ভব নয়। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট যদি রাজনৈতিক দল, প্রশাসন, গণমাধ্যম এবং নাগরিক সমাজ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির পক্ষে একযোগে কাজ করে, তাহলে ব্যক্তিকেন্দ্রিক সুবিধাভোগী রাজনীতির পরিবর্তে অংশগ্রহণমূলক ও জনকল্যাণমুখী রাজনৈতিক সংস্কৃতির দিকে অগ্রসর হওয়া সম্ভব। আর সেই পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে ভোটারদের সচেতন সিদ্ধান্ত এবং জনগণের অব্যাহত গণতান্ত্রিক নজরদারি থেকেই।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Our Like Page

Archive Calendar

Verified by MonsterInsights