
অবৈধ বালুবাহী গাড়ি আটকের জেরে শেরপুরে বনকর্মীদের ওপর হামলা, বিট কর্মকর্তাসহ আহত ২
মো মাকসুদ , শেরপুর জেলা প্রতিনিধি :
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার গজনী বিট এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনে বাধা এবং বালুভর্তি গাড়ি আটক করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গজনী বিট কর্মকর্তা ও এক ফরেস্ট গার্ড আহত হয়েছেন।
সোমবার (৩ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে গজনী বিটের নকশি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন গজনী বিট কর্মকর্তা মো. সালেহীন নেওয়াজ এবং ফরেস্ট গার্ড মো. জিয়াউল হক জিয়া।
রাংটিয়া রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. তানভীর হাসান ইমন জানান, সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাংটিয়া রেঞ্জের আওতাধীন গজনী বিটের নকশি এলাকায় ডিউটিরত অবস্থায় বিট কর্মকর্তা ও ফরেস্ট গার্ডের ওপর হামলা চালানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মান্নানের ভাতিজা রোমান মিয়ার নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর আক্রমণ করে।
হামলায় বিট কর্মকর্তা সালেহীন নেওয়াজ গুরুতর আহত হন। তার মাথা ফেটে যায়। ফরেস্ট গার্ড জিয়াউল হক জিয়াও মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হন।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার আগে সোমবার সকালে বনাঞ্চলের পাহাড়ি ঝুড়া থেকে অবৈধভাবে উত্তোলন করা বালুভর্তি একটি মাহিন্দ্র গাড়ি জব্দ করে একজনকে আটক করেন বিট কর্মকর্তা সালেহীন নেওয়াজ। পরে আটক ব্যক্তি ও গাড়িটি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনার জের ধরেই হামলার ঘটনা ঘটে বলে বন বিভাগের দাবি।
এ বিষয়ে শেরপুর-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, “সন্ত্রাসী যেই হোক, তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আমি বন কর্মকর্তাকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও মামলা করার পরামর্শ দিয়েছি।”
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।





