
ধামইরহাটে জমি দখলকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: স্বামী-স্ত্রীসহ আহত ৩, শ্লীলতাহানির অভিযোগ
মোঃ জিহান বাবু, ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধি:
নওগাঁর ধামইরহাটে জমি সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জের ধরে দলবদ্ধ হয়ে জমি জবরদখল, হামলা ও শ্লীলতাহানির এক বর্বরোচিত ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার ৪নং উমার ইউনিয়নের দৌলতপুর (কাদিপুর) গ্রামে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এতে ধারালো দায়ের কোপে জহুরুল ইসলাম (৩২) নামের এক যুবক রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম হয়েছেন। বর্তমানে তিনি ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্ত্রী মোছাঃ জিয়াছমিন বাদী হয়ে ধামইরহাট থানায় ১৪ জনকে বিবাদী করে একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধামইরহাট থানাধীন দৌলতপুর মৌজার আর এস ১ নম্বর দাগের সাড়ে ২৪ শতক ধানী জমি নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। উক্ত জমিটি বাদী মোছাঃ জিয়াছমিন তাঁর পিতা মোঃ গোলজার হোসেনের নিকট থেকে হেবা ঘোষণা দলিল মূলে প্রাপ্ত হয়ে পরবর্তীতে তাঁর স্বামী জহুরুল ইসলামের নামে রেজিস্ট্রি করে দেন। এরপর থেকে তাঁরা নিয়মিত নামজারি ও খাজনা প্রদান করে ওই জমি ভোগদখল করে আসছিলেন।ঘটনার দিন প্রতিপক্ষরা দেশীয় ও ধারালো অস্ত্রে সজ্জ্বিত হয়ে দলবদ্ধভাবে উক্ত জমি জবরদখল করতে যায়। এতে বাধা দিলে তারা জহুরুল ইসলামের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে তাকে গুরুতর জখম করে। স্বামীকে বাঁচাতে স্ত্রী জিয়াছমিন ও পরিবারের অন্য সদস্যরা এগিয়ে এলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। এতে জহুরুল ইসলামের স্ত্রীসহ আরও দুইজন আহত হন। হামলাকারীরা নারীদের শ্লীলতাহানি ও মারধর করে বলেও এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।এ বিষয়ে গত ১০/০৭/২০২৬ রোজ শুক্রবার সন্ধ্যায় ধামইরহাট থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করা হয়।
আজ (১২ জুলাই) ধামইরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাংবাদিকদের জানান, “ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া এজাহারটি থানায় রেকর্ড করা হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বর্তমানে এলাকায় এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় এলাকাবাসী এই বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।





