
ব্রেন টিউমারের অস্ত্রোপচারে দৃষ্টিশক্তি হারানো স্ত্রীকে যৌতুকের জন্য নির্যাতন, বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে স্বামী গ্রেফতার
মো মাকসুদ
শেরপুর প্রতিনিধি:
শেরপুর সদর উপজেলার বাগরাকসা এলাকায় ব্রেন টিউমারের অস্ত্রোপচারের পর দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হয়ে পড়া এক নারীকে দুই লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী আদালতে অভিযোগ দায়ের করার পর বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে অভিযুক্ত স্বামী মো. শহিদুল্লাহকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১১ সালে পারিবারিকভাবে মো. শহিদুল্লাহর সঙ্গে বিয়ে হয় শামছুননাহারের। ২০১৫ সালে তাদের ঘরে জন্ম নেয় পুত্রসন্তান মো. শোয়াব হাসান সিহাব, যার বর্তমান বয়স ১১ বছর।
অভিযোগে বলা হয়, বিয়ের পর ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হন শামছুননাহার। অস্ত্রোপচারের পর তিনি দৃষ্টিশক্তি হারান। এরপর থেকেই স্বামী বিভিন্ন সময়ে যৌতুকের দাবিতে তাকে নির্যাতন করে আসছিলেন বলে অভিযোগ। পরিবারের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন দফায় নগদ অর্থ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার প্রায় একমাস আগে থেকে তার স্বামী দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিলেন। গত ১১ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাবার বাড়িতে ওই টাকা দাবি করলে তিনি প্রতিবাদ করেন। এ সময় গালিগালাজের পাশাপাশি চড়-থাপ্পড় ও কিল-ঘুষি মেরে তাকে আহত করা হয় বলে অভিযোগ।
চিৎকার শুনে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শেরপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন, যেখানে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে শামছুননাহার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধনী-২০০৩) আইন, ২০০০-এর ১১(গ) ধারায় আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন এবং পিটিশনটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানান। বিজ্ঞ আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে আসামিকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন।
সে নির্দেশ অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাত ১০টার দিকে শহরের থানা মোড় এলাকা থেকে অভিযুক্ত মো. শহিদুল্লাহকে গ্রেফতার করে শেরপুর সদর থানা পুলিশ। মো. শহিদুল্লাহ শেরপুর সদর উপজেলার বাজিতখিলা ইউনিয়নের কুমড়ী মুদীপাড়া এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সাইফুল মুঠোফোনে জানান, আসামি শহিদুলকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।





