
জবির সংগীত বিভাগে ‘জুলাই বিপ্লব ২০২৪’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত
জবি প্রতিনিধি:
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সংগীত বিভাগের উদ্যোগে “জুলাই বিপ্লব ২০২৪” শীর্ষক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বেলা ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গীতাঞ্জলি মঞ্চে এ অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়।
সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থীদের উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর বিভাগের ১১ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী পলি আক্তার ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য’ বিষয়ক নিবন্ধ পাঠ করেন। নিবন্ধে তিনি জুলাই বিপ্লবে ইতিহাসের পরিবর্তন, ন্যায়বিচারের মর্যাদা ও বিপ্লবের চেতনার দিকগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। এছাড়া একই ব্যাচের আরেক শিক্ষার্থী ইশতিয়াক মাহমুদ নাসিফ জুলাই বিপ্লব বিষয়ক গবেষণাধর্মী আলোচনা তুলে ধরেন। পরে সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থীরা নজরুলের দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার অধ্যাপক ড. মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, “সংগীত ছাড়া জুলাই বিপ্লব পূর্ণতা পায় না। চব্বিশের জুলাইয়ের শিক্ষা হলো যে উদ্দেশ্যে আমরা জুলাইকে পেয়েছি এবং বৈষম্য দূরীকরণে এর যে অবদান তা আমাদের হৃদয়ে ধারণ করা। সেসময় আমাদের সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের যে সীমাহীন কষ্ট বরণ করতে হয়েছে তা আমরা কাছ থেকে দেখেছি। সংগীতের সুর ও কথা জুলাইয়ের সেই চেতনাকে বারবার উজ্জীবিত করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “মানুষের মধ্যে ধর্মের ভয় থাকলে যেমন কেউ খারাপ কাজ করতে পারে না, তেমনি জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করলে কেউ কখনও বৈষম্যের দিকে যেতে পারে না।”
আলোচকের বক্তব্যে সংগীত বিভাগের অধ্যাপক ড. আলী এফ এম রেজওয়ান বলেন, “স্বাধীনতার ৫০ বছর পরেও বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে হওয়া আমাদের দেশের বড় ব্যর্থতা। একই পরিবারের সন্তানের মতো আমরা সবাই সমান, তাই কোনো ধরনের বৈষম্য থাকা উচিত নয়।”
বিপ্লব ও গণতন্ত্রের সচেতনতার দিক তুলে ধরে তিনি আরো বলেন, “বিপ্লব বা গণতন্ত্র তাদেরই মানায় যাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষ সচেতন। আমরা নিজেরাই এখনো পুরোপুরি সচেতন হতে পারিনি। আন্দোলন মূলত নিজেদের অধিকার আদায় কিংবা পুঁজিবাদ ও উপনিবেশবাদের মতো বহিরাগত শক্তির বিরুদ্ধে হওয়া উচিত।”
অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে সংগীত বিভাগের চেয়ারম্যান ড. অণিমা রায় বলেন, “আগামী প্রজন্মের সুন্দর একটি ভবিষ্যতের জন্য জুলাই বিপ্লবে আমাদের তরুণ ছেলেমেয়েরা বুকের রক্ত ও প্রাণ দিয়েছে। আজকে তাদের সেই আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা নতুন স্বাধীনতা পেয়েছি।”
শিল্প ও সুরের তাৎপর্য উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “আমরা জটিল রাজনীতি বুঝি না, আমরা বুঝি সুরের ভাষা। আমাদের রাজনীতি হলো নজরুল, রবীন্দ্রনাথ ও লালনের চেতনা। সংগীত সবসময় ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তোলে এবং শান্তির কথা বলে।”
উল্লেখ্য, সংগীত বিভাগের ১১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী উপমার চমৎকার সঞ্চালনায় আয়োজিত এ সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।





