
বিথির পেটে গজ রেখে সেলাই, পায়খানা-প্রস্রাবের রাস্তা বাইপাসের অভিযোগ
মামুন মিঞা
ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি:
ফরিদপুরে প্রসবজনিত অস্ত্রোপচারের পর বিথি নামের এক রোগীর পেটে গজ রেখে সেলাই করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে বর্তমানে তার পায়খানা ও প্রস্রাবের স্বাভাবিক পথের পরিবর্তে অন্য পথে বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে বলেও দাবি করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার। গুরুতর এ অভিযোগের পর ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, গত ১৫ জুলাই ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিথির প্রসবজনিত অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বিভিন্নভাবে চিকিৎসা নিতে হয়। পরিবারের অভিযোগ, ওই অস্ত্রোপচারের সময় রোগীর পেটের ভেতরে গজ রেখে সেলাই করে দেওয়া হয়েছিল।
পরিবারের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, ওই অস্ত্রোপচারের সঙ্গে সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. তামান্না যুক্ত ছিলেন। সে সময় সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বে ডা. সঞ্জয় এবং একই বিভাগের সিনিয়র চিকিৎসক হিসেবে ডা. ইসরাত জাহান দায়িত্ব পালন করছিলেন বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন। তবে অস্ত্রোপচারে কার কী দায়িত্ব ছিল এবং চিকিৎসায় কোনো ধরনের গাফিলতি হয়েছিল কি না, তা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, বর্তমানে বিথির পায়খানা ও প্রস্রাবের স্বাভাবিক পথের পরিবর্তে অন্য পথে বাইপাস করে অপসারণ করা হচ্ছে। গুরুতর শারীরিক জটিলতায় তিনি বর্তমানে করুণ অবস্থায় রয়েছেন বলেও পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, এ পর্যন্ত বিথির চিকিৎসার পেছনে প্রায় দুই লাখ টাকার বেশি খরচ হয়েছে। আর্থিক সংকটের কারণে বর্তমানে তার উন্নত চিকিৎসা ও নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। অসহায় পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা বলেন, তারা কোনো চিকিৎসক বা হাসপাতালকে উদ্দেশ্য করে অভিযোগ তুলতে চান না। তবে একজন রোগী চিকিৎসকের কাছে সুস্থ হওয়ার আশায় যান। চিকিৎসার পর যদি গুরুতর জটিলতা তৈরি হয়, তাহলে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা প্রয়োজন।
তাদের দাবি, তদন্তে যদি চিকিৎসায় গাফিলতি বা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন ও চিকিৎসা-নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি বিথির দ্রুত উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসকদের বক্তব্য জানা সম্ভব হলে তা প্রতিবেদনের পরবর্তী সংস্করণে যুক্ত করা হবে। চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তদন্তই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সচেতন মহল





