
শেওড়াপাড়ায় ৫ কাঠা জমি দখলের অভিযোগ, প্রতিকার চেয়ে মুকুল আমিনের প্রশাসনের দ্বারস্থ আপন ভাইয়ের বিরুদ্ধে জমি দখল ও হুমকির অভিযোগ; সরেজমিনে গিয়ে বাধার মুখে সংবাদকর্মীরা
সিনিয়র রিপোর্টারঃ রাকিব
রাজধানীর শেওড়াপাড়ার ৫৯৩/এ এলাকায় মেট্রোরেলের ৩২০ নম্বর পিলারের পাশে প্রায় ৫ কাঠা জমি দখলকে কেন্দ্র করে দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধের অভিযোগ উঠেছে। জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে আলহাজ্ব মো. মুকুল আমিনের অভিযোগ, তার আপন ছোট ভাই মো. আলমগীর ওরফে অ্যাপোলো প্রভাব খাটিয়ে ওই জমি দখল করে রেখেছেন।
মুকুল আমিনের দাবি, তাদের পিতা মৃত আলহাজ্ব আব্দুল মালেকের রেখে যাওয়া সম্পত্তির অংশ হিসেবে তিনি ওই জমির বৈধ মালিক। তার কাছে জমি-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে তাকে জমি থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মুকুল আমিন আরও অভিযোগ করেন, অ্যাপোলোর সঙ্গে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি—আব্দুস সালাম, আরিফ, রুহুল আমিন, আব্দুল আলিম ও আতিকসহ আরও কয়েকজন—তাকে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছেন। তাদের মাধ্যমে জমিটি দখলে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ তার।
এদিকে জমিটি ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও নানা অভিযোগ রয়েছে। কয়েকজন প্রতিবেশীর দাবি, রাতের বেলায় ওই এলাকায় বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলে। সেখানে মাদক বা ইয়াবাসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড হচ্ছে কি না, তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
মুকুল আমিনের আরও অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে অ্যাপোলো স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি পদে ছিলেন এবং রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে জমি দখলের চেষ্টা করেছেন। এছাড়া ৫ আগস্টের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে এবং ৭ আগস্ট তিনি দেশ ছেড়ে চলে গেছেন বলেও মুকুল আমিন দাবি করেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়ে মুকুল আমিন থানায় অভিযোগ করেছেন বলেও জানান। তার দাবি, একাধিকবার প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেও কার্যকর প্রতিকার পাননি। তিনি আরও দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জমিতে কাজ বন্ধ রাখার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হলেও তা মানা হয়নি।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংবাদকর্মীরা সরেজমিনে ওই এলাকায় গেলে সেখানে তাদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ সময় দায়িত্বে থাকা একজন ব্যক্তিকে ফোন করা হলে তিনি সেখানে সংবাদকর্মীদের প্রবেশের বিষয়ে আপত্তি জানান এবং কর্মচারীদের সঙ্গে অশালীন ভাষায় কথা বলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটির কথোপকথন সংবাদকর্মীরা রেকর্ড করেছেন বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি ও স্থানীয় বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলেও জমি দখল ও রাতের বেলায় কথিত কর্মকাণ্ড নিয়ে অভিযোগ পাওয়া যায়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রকৃত ঘটনা আরও স্পষ্ট হবে।
মুকুল আমিন বলেন, “আমার জমির কাগজপত্র সঠিক থাকা সত্ত্বেও আমি আইনগত সহযোগিতা পাচ্ছি না। আমি চাই প্রশাসন নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত মালিকানা ও দখলের বিষয়টি নির্ধারণ করুক।”
অভিযোগের বিষয়ে মো. আলমগীর ওরফে অ্যাপোলোর বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের দাবি, জমির মালিকানা ও দখল সংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিরোধের নিষ্পত্তি করা হোক এবং যদি মাদক বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।





