
যশোরের চাঁচড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যথাসময়ে থাকেন না কর্মীরা: দেরিতে আসাই যেন ‘নিয়ম’
যশোর প্রতিনিধি:
রফিকুল ইসলাম সবুজ
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতিদিন সকাল ৯টায় অফিসে উপস্থিত হয়ে সেবা কার্যক্রম শুরু করার কথা থাকলেও যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে মিলল ভিন্ন চিত্র। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সময়মতো অফিসে না আসার কারণে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় সচেতন মহল।
আজ সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার রুমা সুলতানা সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে এবং কার্যালয়ের আয়া মফিদা খাতুন ৯টা ২৫ মিনিটে অফিসে উপস্থিত হন। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় দিনই তারা নির্দিষ্ট সময়ের অনেক পর অফিসে আসেন, যার ফলে সকালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।
দেরিতে আসার বিষয়ে জানতে চাইলে অফিস আয়া মফিদা বলেন, “আমার সাধারণত দেরি হয় না, তবে আজ একটু দেরি হয়ে গেছে।”
অন্যদিকে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার রুমা সুলতানা বিলম্বের কারণ হিসেবে যাতায়াত ব্যবস্থাকে দায়ী করে বলেন, “বাসা থেকে আসতে ৩-৪ বার গাড়ি পরিবর্তন করতে হয়, তাই মাঝে মাঝে দেরি হয়। তবে দেরি হলে বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়ে দিই, যদিও আজকের ঘটনাটি জানানো হয়নি।”
অফিস সূচির কঠোর বাধ্যবাধকতার কথা উল্লেখ করে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা তাছলিমা খাতুন বলেন, “সকাল ৯টায় সকলকে অফিসে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক।”
এ বিষয়ে পরিবার পরিকল্পনার উপপরিচালক দিলদার হোসেন জানান, সরকারি নির্দেশনামা অনুযায়ী অফিস সময় সকাল ৯টা। সর্বোচ্চ ৯টা ১৫ মিনিটের মধ্যে হাজিরা শেষ করার সুযোগ থাকলেও সকাল ৯টার মধ্যেই অফিসে উপস্থিত হতে হবে। তিনি আরও জানান, সরকারি সময়সূচি লঙ্ঘন করার অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের কাছে কৈফিয়ত তলব করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকারি এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত ও সময়মতো উপস্থিতি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।





