
ছাত্ররাজনীতি থেকে যুবদল, ১৭ বছরের লড়াই শেষে মহিদুলের নিঃসঙ্গ জীবন
আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলেন সক্রিয় , হামলার পর শারীরিক ও আর্থিক সংকটে ঘরবন্দী
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাগেরহাট (রামপাল) প্রতিনিধি : আরিফ হাসান গজনবী
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার পেড়িখালী ইউনিয়নের সতকুরিয়া গ্রামের মহিদুল ইসলাম। ছাত্ররাজনীতি দিয়ে শুরু, পরে যুক্ত হন যুবদলের রাজনীতিতে। দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি ও আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকার দাবি তাঁর রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের। তবে সময়ের ব্যবধানে সেই রাজপথের কর্মী এখন শারীরিক ও আর্থিক সংকটে অনেকটাই ঘরবন্দী জীবনযাপন করছেন বলে দাবি তাঁর ঘনিষ্ঠদের।
সহযোদ্ধাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ছোটবেলা থেকেই মহিদুল ছিলেন শান্ত, ভদ্র ও বিনয়ী স্বভাবের। অন্যায় দেখলে প্রতিবাদ করার প্রবণতাও ছিল তাঁর মধ্যে। জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্ররাজনীতিতে তাঁর পথচলা শুরু হয়।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, মহিদুল ইসলাম রামপাল সরকারি কলেজের সাবেক ছাত্রনেতা এবং কলেজ শাখার সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তী সময়ে রামপাল উপজেলা যুবদলের রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন। ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে যুবদলের প্রতি টা কর্মসূচিতেও ‘মো. মহিদুল ইসলাম’-এর উপস্থিতির উল্লেখ পাওয়া যায়।
১৭ বছরের রাজনৈতিক পথচলা
মহিদুলের রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি সক্রিয় ছিলেন। দলীয় কর্মসূচিতে নিজের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয়কে পেছনে রেখে অংশ নেওয়ার কথাও জানান তাঁরা।
তাঁদের আরও দাবি, রামপালের বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি তরুণদের সংগঠিত করতে ভূমিকা রেখেছেন। তবে এসব দাবির বিস্তারিত স্বাধীন যাচাই এই প্রতিবেদনের পক্ষে সম্ভব হয়নি।
হামলার পর বদলে যায় জীবন
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ৫ আগস্টের পর মহিদুল ইসলাম হামলার শিকার হন। এতে তিনি শারীরিকভাবে গুরুতর ক্ষতির সম্মুখীন হন বলে দাবি তাঁর ঘনিষ্ঠদের।
তাঁদের দাবি, ঘটনার পর মামলার অগ্রগতি এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আদালতের নথি যাচাই প্রয়োজন।
ঘরবন্দী জীবনে পরিবার নিয়ে সংকট
মহিদুল ইসলামের পরিবারে স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে। ঘনিষ্ঠদের দাবি, শারীরিক ও আর্থিক সংকটের কারণে বর্তমানে তাঁর স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। চিকিৎসা ও পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
যে মানুষটির দীর্ঘ রাজনৈতিক সক্রিয়তার কথা তাঁর সহযোদ্ধারা তুলে ধরছেন, তাঁর বর্তমান দুর্দিনে দলীয় নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক সহকর্মীদের ভূমিকা কী—এ প্রশ্নও সামনে এসেছে।
মহিদুলের ঘনিষ্ঠরা চান, তাঁর ওপর হামলার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, আইনগত অগ্রগতির স্বচ্ছতা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হোক।
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আরিফ হাসান গজনবী
রামপাল (বাগেরহাট) প্রতিনিধি





