
রাঙামাটি ইউনিয়ন পরিষদে ভুয়া জন্ম সনদ ও মৃত্যু সনদ বেড়িয়ে এলো গোপন রহস্য
স্টাফ রিপোর্টার
আদিলুর রহমান
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার ৮ নম্বর রাঙামাটিয়া ইউনিয়ন পরিষদে ( ২০২৫ সালে )১১৫ জন শিশুর ভুয়া জন্মসনদ তৈরি এবং ৪৫ দিন পর ঐ ১১৫ জন শিশুর মৃত্যু সনদ নিবন্ধন করা হয় । সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় ,নিবন্ধিত শিশু গুলোর জন্ম বাস্তবে হয়নি। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি হিসেবে বিবেচিত জন্মনিবন্ধন সনদ নিয়ে এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা।
চেয়ারম্যান ও প্রশাসনিক কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানা যায় ,রাঙামাটিয়া ইউনিয়ন পরিষদে সরকার কর্তৃক প্রতি মাসে ৪৭ টি জন্ম সনদ এবং ১৭ টি মৃত্যু সনদ নিবন্ধনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।আর সেই নির্দেশনা পালনে এমন কাল্পনিক নিবন্ধনের ঘটনা ঘটে।
প্রতিটি জন্ম নিবন্ধনের জন্য এই পরিষদে ২০০ টাকা ফি নেওয়া হয়। নিজেদের অর্থ ব্যয় করে এভাবে কেন নিবন্ধন সনদ তৈরি করা হলো এমন প্রশ্ন এখন এলাকা বাসীর মূখে।
জন্মনিবন্ধন সনদ একজন নাগরিকের পরিচয়, বয়স ও পারিবারিক তথ্যের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দলিল। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সেবা গ্রহণ এবং নানা প্রশাসনিক কাজে জন্মনিবন্ধনের তথ্য ব্যবহৃত হয়। ফলে এই নথি তৈরিতে কোনো ধরনের অনিয়ম হলে তা ব্যক্তি পর্যায়ের পাশাপাশি প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি করতে পারে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদে জন্মনিবন্ধনের আবেদন গ্রহণ থেকে শুরু করে তথ্য যাচাই, সংশোধন এবং সনদ প্রদানের প্রতিটি ধাপে দায়িত্বশীলদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন। কোনো আবেদনকারীর তথ্য সঠিকভাবে যাচাই না করে জন্মসনদ দেওয়া হলে ভবিষ্যতে এর দায়ভার কার ওপর বর্তাবে—এ নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এদিকে ভুয়া জন্মসনদ তৈরির অভিযোগের সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী সরাসরি জড়িত কি না, নাকি পরিষদের বাইরে কোনো ব্যক্তি বা চক্র এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে—তা নিয়েও নানা আলোচনা চলছে। বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ হচ্ছে সাধারণ মানুষের সরকারি সেবা পাওয়ার অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান। এখান থেকে জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেবা গ্রহণ করেন মানুষ। তাই জন্মনিবন্ধনের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে কোনো অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা জনগণের সামনে তুলে ধরা উচিত।
অভিযোগের বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রশাসনিক কর্মকর্তার দায়িত্ব ও ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তারা এসব জন্মসনদ ইস্যুর বিষয়ে অবগত ছিলেন কি না, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করা হয়েছিল কি না এবং নিয়মবহির্ভূত কোনো সনদ ইস্যু হয়ে থাকলে তা কীভাবে হলো—এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে চান স্থানীয়রা।
সচেতন মহলের মতে, ভুয়া জন্মসনদের অভিযোগের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত অভিযোগ বা গুঞ্জনের ওপর নির্ভর না করে সরকারি রেকর্ড, জন্মনিবন্ধন তথ্যভান্ডার, আবেদনপত্র এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করা জরুরি। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও সরকারি বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
অন্যদিকে, যদি অভিযোগটি ভিত্তিহীন হয়, তাহলে তদন্তের মাধ্যমে সেটিও পরিষ্কার করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এতে ইউনিয়ন পরিষদের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বজায় থাকবে এবং প্রকৃত দোষী ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের শনাক্ত করাও সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত তদন্ত করে ভুয়া জন্মসনদ তৈরির অভিযোগের সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
তবে রাঙামাটি ইউনিয়ন পরিষদে ঠিক কতটি জন্মসনদ নিয়ে অভিযোগ উঠেছে, কোন প্রক্রিয়ায় সেগুলো তৈরি হয়েছে এবং এ ঘটনায় কারা জড়িত—এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। অভিযোগের বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রশাসনিক কর্মকর্তার বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।
এ ঘটনায় প্রশাসনের তদন্তে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।





