
কুড়িগ্রামে আমন ধানে ছাতরা পোকার হানা, কীটনাশকেও মিলছে না সুফল।
মোঃ জাফর আহমেদ, কুড়িগ্রাম জেলা সংবাদদাতা
১২ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার
কুড়িগ্রামে আমন ধানখেতে ছাতরা পোকার (মিলিবাগ) আক্রমণে বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। ধানগাছের রস শুষে নেওয়ায় হলুদ হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে গাছ। একাধিকবার কীটনাশক প্রয়োগ করেও সুফল না পাওয়ায় ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকার ধানখেতে দেখা গেছে, আক্রান্ত গাছের কাণ্ড ও পাতার খোলে সাদা তুলার মতো আবরণ তৈরি হয়েছে। এর নিচে থাকা ছোট ছোট পোকা গাছের রস শুষে নিচ্ছে। এতে পাতার রং হলুদ হয়ে যাচ্ছে এবং গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে।
ফুলবাড়ী উপজেলার সদর ইউনিয়নের দাশিয়ারছড়ার কৃষক হানিফ উদ্দিন বলেন, ‘এ মৌসুমে এক একর ৭৫ শতাংশ জমিতে আমন ধান লাগাইছি। এর মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ জমিতে ছাতরা পোকা আক্রমণ করেছে। এবার তো পুরো লস হলো।’
রাজারহাটের কৃষক শুবত চন্দ্র জানান, তাঁর প্রায় ২৫ শতাংশ জমির ধান আক্রান্ত হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের ওষুধ প্রয়োগ করেও কাজ না হওয়ায় আক্রান্ত ধানগাছ কেটে গরুকে খাইয়েছেন তিনি।
স্থানীয় কীটনাশক বিক্রেতা কাইয়ুম সরকার বলেন, প্রায় ২০ বছর ধরে ব্যবসা করলেও আমন ধানখেতে এ ধরনের পোকার আক্রমণ আগে দেখেননি। গত বছর দু-একটি গাছে পোকা দেখা গেলেও এবার বিভিন্ন জমিতে এর উপস্থিতি বেড়েছে।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, ছাতরা পোকা ধানগাছের রস শোষণ করে। আক্রমণ তীব্র হলে গাছ শুকিয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু ফাত্তাহ্ মো. রওশন কবির বলেন, খরার কারণে পোকার আক্রমণ বাড়তে পারে। কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক সময়ে বালাইনাশক প্রয়োগ করলে এ পোকা দমন সম্ভব।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর কুড়িগ্রামে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ২১ হাজার হেক্টর। এর বিপরীতে আবাদ হয়েছে ১ লাখ ২১ হাজার ৬৩০ হেক্টর জমিতে। আমনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ছাতরা পোকার আক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা।





