
নোটিশ দিয়েও উচ্ছেদ অভিযান নয় কেন? নীলফামারীতে চৌরঙ্গী মোড় থেকে কালীতলা পর্যন্ত ফুটপাত দখলমুক্ত করার দাবি
রাব্বি রহমান, নীলফামারী প্রতিনিধি:
নীলফামারী শহরের ব্যস্ততম সড়কের চৌরঙ্গী মোড় থেকে কালীতলা পর্যন্ত ফুটপাত দখলমুক্ত করতে নোটিশ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়নি। এতে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, নোটিশ দেওয়ার পরও কেন কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ? কবে নাগাদ ফুটপাত দখলমুক্ত করে সাধারণ মানুষের চলাচলের উপযোগী করা হবে?
শহরের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের দুই পাশের ফুটপাত দখল হয়ে থাকায় প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পথচারীদের। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, নারী, শিশু, বয়স্ক ও কর্মজীবী মানুষকে ফুটপাত দিয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে না পেরে বাধ্য হয়ে মূল সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ফুটপাত পথচারীদের নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য নির্মাণ করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বিভিন্নভাবে দখল ও প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের চলাচলের অধিকার ব্যাহত হচ্ছে। ব্যস্ততম সড়কে ফুটপাত ব্যবহার করতে না পেরে অনেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যানবাহনের পাশ দিয়ে চলাচল করছেন। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন নাগরিকরা।
এদিকে, ফুটপাত দখলমুক্ত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। কিন্তু নোটিশ দেওয়ার পরও উচ্ছেদ অভিযান দৃশ্যমান না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তাদের প্রশ্ন, নোটিশ দেওয়ার উদ্দেশ্য যদি ফুটপাত দখলমুক্ত করা হয়, তাহলে সেই নোটিশ বাস্তবায়নে বিলম্ব হচ্ছে কেন? দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে বাধা কোথায়?
সচেতন মহলের মতে, শুধু নোটিশ প্রদান করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। জনস্বার্থে নোটিশের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। ফুটপাত দখলমুক্ত করা হলে পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি শহরের যানজট নিরসনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তাদের দাবি, চৌরঙ্গী মোড় থেকে কালীতলা পর্যন্ত পুরো সড়কের ফুটপাত সরেজমিনে পরিদর্শন করে দখল ও প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করতে হবে। এরপর দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে ফুটপাত সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে উচ্ছেদের পর যাতে পুনরায় কেউ ফুটপাত দখল করতে না পারে, সে জন্য নিয়মিত তদারকি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
সাধারণ পথচারীদের প্রত্যাশা, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে নীলফামারী জেলা প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। নোটিশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে চৌরঙ্গী মোড় থেকে কালীতলা পর্যন্ত ফুটপাত দখলমুক্ত করা হবে।
এখন সচেতন নাগরিকদের একটাই প্রশ্ন—নোটিশ দেওয়া হয়েছে, তাহলে উচ্ছেদ অভিযান কবে? পথচারীদের ফুটপাত ফিরিয়ে দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আর কত দিন অপেক্ষা করবে?





