
শাবিপ্রবিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-২০২৬ উদযাপন।
আল আমিন সুমন আহমদ
সিলেট প্রতিনিধি
আজ ৭ নভেম্বর, ২০২৬ তারিখ, শনিবার যথাযোগ্য মর্যাদায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট-এ বিভিন্ন আয়োজনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-২০২৬ উদযাপন করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে সকাল ১০টায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বৃক্ষরোপণ ও একটি বর্ণাঢ্য র্যালির মধ্য দিয়ে দিনের কার্যক্রমের সূচনা হয়। ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোঃ খায়রুল ইসলামের নেতৃত্বে র্যালিটি প্রশাসন ভবন-১ এর সামনে থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মিনি অডিটোরিয়ামে এসে শেষ হয়।
মিনি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও শাবিপ্রবির সিন্ডিকেট সদস্য জনাব আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাবিপ্রবির ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোঃ খায়রুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রশাসক জনাব আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। একদলীয় বাকশাল শাসনের অবসানের পর তিনি সব রাজনৈতিক দলের জন্য রাজনীতির অধিকার ফিরিয়ে দেন। অন্যদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে আবারও গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা জাতিকে দিকনির্দেশনা দিয়েছিল। একজন সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে নিজের জীবন ও পরিবারের নিরাপত্তার ঝুঁকি পিছনে ফেলে করে তিনি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
৭ নভেম্বরের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে সিসিক প্রশাসক বলেন, সে সময় জিয়াউর রহমানকে বন্দি রাখা হয়েছিল। অন্যদিকে সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছিল। এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে তিনি মুক্তি লাভ করেন। এই ঘটনা দেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় পরিবর্তন করে। পরবর্তী সময়ে তিনি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে জাতীয় ঐক্য, সুশাসন ও অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে কাজ করেন।
তিনি আরও বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। জনগণের প্রত্যক্ষ ম্যান্ডেট নিয়ে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর রাজনৈতিক দর্শন ও রাষ্ট্র পরিচালনার ধারাবাহিকতায় পরবর্তী সময়ে বেগম খালেদা জিয়াও গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন।
সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ খায়রুল ইসলাম বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আমাদের জাতির ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিবস। এই দিবসের মূল নায়ক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন স্বাধীনতার মহান ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। বিগত ১৭ বছর এ দিবসটি পালনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। নতুন প্রজন্মকে এ দিবসের তাৎপর্য ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু ইতিহাস কখনো জোর করে মুছে ফেলা যায় না। আজ সেটিই প্রমাণিত সত্য। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, যিনি দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করেন তিনি মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেন। এমন মানুষদের ইতিহাস থেকে কখনো মুছে ফেলা যায় না। আমাদের সন্তানদের সঠিক ইতিহাস জানতে হবে। কারণ সঠিক ইতিহাস জানার মাধ্যমেই তারা দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে।
আলোচনা সভায় ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস: ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক তাৎপর্য, রাষ্ট্রীয় সংকট থেকে উত্তরণ এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মোরাদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. জি এম রবিউল ইসলাম। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উদযাপন কমিটির সভাপতি ও গণিত বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মো. আশরাফ উদ্দিন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন রেজিস্ট্রার (ইনচার্জ) কালাম আহমদ চৌধুরী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব অতিরিক্ত পরিক্ষা নিয়ন্ত্রক মোঃ মখলিছুর রহমান।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন লাইফ সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক মিয়া, ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, আয়েশা সিদ্দিকা হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. দিলারা রহমান, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মেজর মোঃ আশ্রাফুল করিম, লাইব্রেরী প্রশাসক অধ্যাপক মুহঃ মিজানুর রহমান, ‘বিজয় ২৪’ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক আ ফ ম জাকারিয়া, অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার মোঃ ছুফিয়ান চৌধুরী, অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার মোঃ ফয়ছল আহমদ, শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ সোহাগ মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক নাঈম সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক আদনান আহমেদ মোহন এবং শাবি কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাবেদ আহমদ। অনুষ্ঠানের সূচনায় পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন শাহপরাণ হলের পেশ ইমাম হাফিজ মুহাম্মদ আনোয়ারুল হক।
আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা এবং কর্মচারীরা।
এছাড়া দিনব্যাপী কুরআন খতম শেষে বাদ এশা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে দু‘য়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।





