
দেড়শত বছরের পুরনো রাস্তা বন্ধের অভিযোগ! জল পেরিয়ে স্কুলে যেতে হচ্ছে পড়ুয়াদের, চরম দুর্ভোগে ময়দার বাসিন্দারা
মোমিন আলি লস্কর, জয়নগর:
দীর্ঘদিনের যাতায়াতের রাস্তা কার্যত অবরুদ্ধ! কোথাও জমে রয়েছে পুকুরের জল, কোথাও আবার রাস্তার উপর গাছপালা ও আগাছায় ভরে গিয়েছে চলাচলের পথ। এমনই দুর্বিষহ পরিস্থিতির অভিযোগ উঠেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ময়দা অঞ্চলের জীবনমন্ডল হাট বটতলা সংলগ্ন শানের পুকুর এলাকার একটি জনবহুল পাড়ায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, তাঁদের এই যাতায়াতের রাস্তাটি প্রায় ১৫০ বছরের পুরনো। একসময় কালীপদ মিস্ত্রির মালিকানাধীন জমির মধ্য দিয়ে এই রাস্তা দিয়ে এলাকার মানুষ যাতায়াত করতেন। পরবর্তীকালে জমিটি বলাই নস্কর নামে এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি হয় বলে দাবি স্থানীয়দের। তাঁদের অভিযোগ, এরপর থেকেই রাস্তার উপর গাছপালা লাগানো এবং পুকুরের পাড় ক্রমশ বাড়ানোর ফলে রাস্তাটি সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে। বর্তমানে সাধারণ মানুষের যাতায়াত কার্যত দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, পুকুরের পাড় ভাঙতে ভাঙতে পুকুরের পরিধি ক্রমশ বেড়েছে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে পুকুরের পাড় বাঁধানোর কোনও ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে রাস্তার বড় অংশ জলমগ্ন হয়ে পড়েছে।
সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে স্কুলপড়ুয়া শিশু, মহিলা, বয়স্ক মানুষ এবং অসুস্থ রোগীদের। বর্ষাকালে জল জমে কখনও হাঁটুসমান, আবার কখনও কোমর ছুঁইছুঁই অবস্থায় পৌঁছে যায় বলে অভিযোগ। এমন পরিস্থিতিতে শিশুদের স্কুলে যাওয়া থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে বাইরে বের হওয়াও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোনও প্রসূতি মহিলার জরুরি চিকিৎসা বা অ্যাম্বুল্যান্সের প্রয়োজন হলেও বিকল্প রাস্তা না থাকায় বড় বিপদের আশঙ্কা করছেন বাসিন্দারা।এই পাড়ায় ২৫ -৩০টি পরিবারের বসবাস ।
স্থানীয় এক বাসিন্দার বক্তব্য, এই পথটি বন্ধ হয়ে গেলে পিছনের বাড়িগুলির মানুষের যাতায়াতের কার্যত আর কোনও বিকল্প রাস্তা থাকবে না। তাঁদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট জমির মালিকপক্ষ রাস্তা দিতে রাজি নন। ভবিষ্যতে সেখানে বাড়ি বা বিল্ডিং নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও যাতায়াতের রাস্তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে না বলে দাবি তাঁদের।এই সমস্যা নিয়ে ইতিমধ্যেই ময়দা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান, উপপ্রধান ও সদস্যদের পাশাপাশি জেলা পরিষদ এবং প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার জানানো হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। এমনকী জয়নগর থানা এবং পরবর্তীকালে বকুলতলা থানাতেও বিষয়টি জানানো হয়েছে বলে জানান তাঁরা। অভিযোগ, বারবার আবেদন জানিয়েও এখনও পর্যন্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি।
এলাকাবাসীর একটাই দাবি, কোনও ব্যক্তিগত বিরোধের ঊর্ধ্বে উঠে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াতের সমস্যার সমাধান করতে হবে। রাস্তা পুনরুদ্ধার করে শিশু, মহিলা, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষদের নিরাপদ যাতায়াতের ব্যবস্থা করতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর কাছে কাতর আবেদন
সাংবাদিকের মুখোমুখি হয়ে এক স্থানীয় বাসিন্দার কার্যত হাতজোড় করে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানান। তাঁর বক্তব্য, “আমরা পরিবার-পরিজন, বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে খুব কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। জল পেরিয়ে আমাদের প্রতিদিন যাতায়াত করতে হচ্ছে। বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আমাদের একটাই আবেদন, অবিলম্বে বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে খতিয়ে দেখে এই রাস্তা চলাচলের উপযোগী করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।”
এখন এলাকাবাসীর একটাই প্রশ্ন—দেড়শো বছরের পুরনো বলে দাবি করা এই যাতায়াতের পথের সমস্যা কবে মিটবে? কবে স্বাভাবিকভাবে স্কুলে যেতে পারবে শিশুরা? কবে জল পেরিয়ে যাতায়াতের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবেন এলাকার মানুষ?প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপের অপেক্ষায় জয়নগর দুই নম্বর ব্লকের বকুলতলা থানার অন্তগর্ত ময়দা অঞ্চলের জীবনমন্ডল হাট বটতলা সংলগ্ন এলাকার পাড়ার ২৫-৩০টি অসহায় পরিবারগুলি।





