
শহীদ জিয়ার আদর্শে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতন্ত্র পুনর্গঠনের প্রত্যয় কুড়িগ্রাম বিএনপির
মোঃ জাফর আহমেদ কুড়িগ্রাম জেলা সংবাদদাতাঃ
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক, জাতীয়তাবাদী রাজনীতির অবিসংবাদিত নেতা এবং আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম)-এর ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির উদ্যোগে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও পথচারীদের মাঝে খাবার বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিনব্যাপী এ আয়োজনে নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি শহীদ জিয়ার প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও তাঁর আদর্শের প্রতি অবিচল আস্থার বহিঃপ্রকাশ ঘটায়।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন শুধু একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক নন, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয়তাবাদ ও গণতন্ত্রের প্রতীক। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে আত্মনির্ভরশীলতার পথে এগিয়ে নেওয়া, বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের ক্ষমতায়নের মাধ্যমে তিনি দেশের উন্নয়নের যে ভিত্তি রচনা করেছিলেন, তা আজও জাতির জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে রয়েছে।
কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলহাজ্ব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ। তিনি বলেন, “শহীদ জিয়ার স্বপ্ন ছিল একটি আত্মমর্যাদাশীল, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের দায়িত্ব আজ আমাদের সবার। দলকে শক্তিশালী করতে হলে বিভেদ, গ্রুপিং ও ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জনগণের কল্যাণে কাজ করতে হবে। জনগণের আস্থা অর্জন ছাড়া কোনো রাজনৈতিক সংগঠন টিকে থাকতে পারে না।”
তিনি আরও বলেন, “অতীতের সীমাবদ্ধতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের আত্মসমালোচনার মাধ্যমে এগিয়ে যেতে হবে। জনগণের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়িয়ে বিএনপির রাজনীতিকে মানুষের হৃদয়ের আরও কাছে পৌঁছে দিতে হবে।”
সভাপতির বক্তব্যে মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শই আমাদের রাজনৈতিক পথচলার মূল শক্তি। তাঁর দেখানো পথ অনুসরণ করেই দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং গণতন্ত্রের সুরক্ষায় বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”
বিশেষ অতিথি জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, “শহীদ জিয়া আজীবন দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রাম করেছেন। তাঁর আত্মত্যাগের ইতিহাস জাতি কখনো ভুলবে না। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণ এবং একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থা গঠনের সংগ্রামে বিএনপির নেতাকর্মীদের আরও সুসংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”
অপর বিশেষ অতিথি মো. হাসিবুর রহমান হাসিব বলেন, “শহীদ জিয়ার আদর্শ শুধু একটি রাজনৈতিক দর্শন নয়, এটি দেশপ্রেম, আত্মত্যাগ ও জনগণের কল্যাণে নিবেদিত এক জীবনদর্শন। তাঁর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার জন্য তরুণ প্রজন্মকে জাতীয়তাবাদী চেতনায় উজ্জীবিত করতে হবে।”
এসময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ওমর ফারুক, সাবেক মেয়র আবু বকর সিদ্দিক, জেলা বিএনপির সদস্য আজিজুল হক ও আশরাফুল হক রুবেল, জেলা মহিলা দলের সভাপতি রেশমা সুলতানা, সাধারণ সম্পাদক মোসলেমা বেগম মিলি কায়কোবাদ, সদর থানা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর বিপ্লব, জেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাসিম পারভেজ তারা, সাধারণ সম্পাদক নাদিম আহমেদ, সাবেক ছাত্রদলের সভাপতি আমিমুল ইহছান, সাধারণ সম্পাদক হাসান জুবায়ের হিমেইল, নবগঠিত ছাত্রদলের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম বিপুল, সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা এবং বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।
আলোচনা সভা শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। পরে সাধারণ পথচারী, শ্রমজীবী ও অসহায় মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানের শেষভাগে নেতারা শহীদ জিয়ার আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে গণতন্ত্র, জনগণের অধিকার এবং দেশের উন্নয়নের সংগ্রামে আরও দৃঢ়ভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বক্তারা বলেন, “শহীদ জিয়ার আদর্শ ও আত্মত্যাগ যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন কোটি মানুষের হৃদয়ে প্রেরণার বাতিঘর হয়ে বেঁচে থাকবে।”





