
আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা উপেক্ষা করে রহস্যজনক কারণে বিএসবিআরএর নির্বাচন স্থগিত
নিজ্জল সাহা
স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম: আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও রহস্যজনক কারণে বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইকেলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসবিআরএ) এর বহুল আলোচিত নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। নির্বাচন স্থগিতের এ সিদ্ধান্তকে ঘিরে সংগঠনটির সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা, ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সংগঠনের নির্বাহী কমিটির নির্বাচন আগামী ৩ জুন ২০২৬, বুধবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সকল প্রস্তুতিও প্রায় সম্পন্ন করা হয়েছিল। তবে ভোটগ্রহণের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে নির্বাচন স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হলে সদস্যদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান মোঃ আফতাব উদ্দিন চৌধুরী সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কিছু জানাতে পারেননি।
এর আগে সভাপতি পদপ্রার্থী আমজাদ হোসেন চৌধুরীর প্রার্থিতা নিয়ে আইনি জটিলতা দেখা দিলে বিষয়টি আদালতে গড়ায়। পরবর্তীতে হাইকোর্ট তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথ সুগম করেন। আদালতের ওই রায়ের পর নির্বাচন অনুষ্ঠানে আর কোনো আইনি বাধা নেই বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছিল।
কিন্তু আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনার পরও হঠাৎ নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় এর পেছনের কারণ নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশন কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে স্থগিতাদেশের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা না দেওয়ায় প্রশ্ন আরও ঘনীভূত হয়েছে।
সংগঠনের কয়েকজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আদালতের নির্দেশনা থাকার পরও নির্বাচন স্থগিত হওয়া অত্যন্ত বিস্ময়কর ও অস্বাভাবিক। তারা মনে করেন, বিষয়টির পেছনে অন্য কোনো প্রভাব বা বিশেষ মহলের ভূমিকা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এদিকে নির্বাচন স্থগিতের ঘটনায় বিভিন্ন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। তারা দ্রুত নির্বাচন অনুষ্ঠানের নতুন তারিখ ঘোষণা এবং নির্বাচন স্থগিতের প্রকৃত কারণ প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।
তবে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হবে এবং বর্তমান অচলাবস্থার অবসান কীভাবে হবে, তা নিয়ে সদস্যদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, আদালতের নির্দেশনার পরও নির্বাচন স্থগিত হওয়ার ঘটনা সংগঠনের নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুনন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। দ্রুত এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা না এলে বিতর্ক আরও তীব্র হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।





