
গাইবান্ধায় সামাজিক বনায়নের সবুজ বিপ্লব: নিরলস প্রচেষ্টায় বদলে যাচ্ছে জেলার পরিবেশ
গাইবান্ধা থেকে মোঃ আবু জাফর মন্ডলঃ
গাইবান্ধা জেলায় পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের লক্ষ্যে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে চলেছে জেলা বন বিভাগের অধীন সামাজিক বনায়ন বিভাগ। ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা মোঃ এএইচ এম শরিফুল ইসলাম মন্ডলের নেতৃত্বে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় জেলার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সড়কের পাশে পরিকল্পিতভাবে ফলজ, বনজ ও ঔষধি বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। ফলে জেলার পরিবেশ যেমন সবুজ ও মনোরম হয়ে উঠছে, তেমনি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায়ও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে এই উদ্যোগ।
জানা গেছে, গাইবান্ধা সামাজিক বনায়ন বিভাগের অধীনে জেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত বৃক্ষরোপণ, পরিচর্যা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বিশেষ করে সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধ বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে একদিকে যেমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, বায়ুদূষণ কমানো এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা অত্যন্ত আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে এই কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। তাঁর দূরদর্শী পরিকল্পনা ও নেতৃত্বে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দলগতভাবে কাজ করে জেলার সবুজায়ন কর্মসূচিকে আরও গতিশীল করে তুলেছেন। মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি, বৃক্ষের পরিচর্যা এবং নতুন নতুন এলাকায় বনায়ন সম্প্রসারণের মাধ্যমে তিনি পরিবেশ উন্নয়নে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে সহকারী ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মোরশেদ আলম এবং খন্দকার মেহেদী হাসান-এর সার্বিক সহযোগিতা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তাঁদের সমন্বিত প্রচেষ্টা, দায়িত্বশীলতা ও কর্মনিষ্ঠার ফলে সামাজিক বনায়ন বিভাগের বিভিন্ন প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে কর্মস্পৃহা সৃষ্টি এবং জনগণকে বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ করতেও তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
পরিবেশবিদদের মতে, বর্তমান সময়ে জলবায়ু পরিবর্তন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং পরিবেশ দূষণের মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সামাজিক বনায়ন কর্মসূচি অত্যন্ত কার্যকর। গাইবান্ধা বন বিভাগের এই উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য ও সবুজ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারাও বন বিভাগের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে শুধু পরিবেশের সৌন্দর্যই বৃদ্ধি পাচ্ছে না, বরং জনস্বাস্থ্য, জীববৈচিত্র্য এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সব মিলিয়ে, গাইবান্ধা জেলা সামাজিক বনায়ন বিভাগের নিরলস প্রচেষ্টা ও আন্তরিক কর্মতৎপরতায় জেলার পরিবেশ ক্রমেই আরও সবুজ, সুন্দর ও প্রাণবন্ত হয়ে উঠছে। পরিবেশ রক্ষায় এই ধারাবাহিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।





