
সরকারি তথ্যে ‘সংকট নেই’, বাস্তবে রৌমারীর ব্রহ্মপুত্র ফিলিং স্টেশনে তেলশূন্যতা: তেল না পেয়ে ফিরছেন শত শত বাইকার।
কুড়িগ্রাম জেলা সংবাদদাতাঃ ২৮ জুলাই ২০২৬
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)-এর অফিসিয়াল প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছে, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে এবং কোথাও কোনো সংকট নেই। জাতীয় গণমাধ্যমেও দেশের অন্য কোথাও তেল সংকটের খবর প্রকাশ পায়নি। তবে সরকারি এই তথ্যের সঙ্গে বাস্তবতার স্পষ্ট অসামঞ্জস্যের চিত্র দেখা গেছে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায়। ২৮ জুলাই সরেজমিনে উপজেলার ব্রহ্মপুত্র ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, পাম্পটি সম্পূর্ণ তেলশূন্য হয়ে পড়েছে।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ফিলিং স্টেশনের প্রধান ফটকে ‘তেল নেই’ লেখা একটি নোটিশ টাঙানো রয়েছে। পাম্পের কার্যক্রম কার্যত বন্ধ। কর্মচারীরা অলস সময় পার করছেন। অন্যদিকে সকাল থেকেই দূর-দূরান্ত থেকে আসা শত শত মোটরসাইকেল চালক, ইজিবাইক চালক এবং অন্যান্য যানবাহনের মালিক তেল সংগ্রহের আশায় এসে চরম ভোগান্তিতে পড়েন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও তেল না পেয়ে অনেককে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে দেখা যায়।
তেল না পেয়ে ফিরে যাওয়া এক মোটরসাইকেল চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পত্রিকায় পড়ি দেশে তেলের কোনো অভাব নেই, মন্ত্রীরাও বলছেন পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তাহলে রৌমারীতে আমরা তেল পাচ্ছি না কেন? আমাদের কাজকর্ম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আমাদের কষ্ট দেখার যেন কেউ নেই।”
আরেকজন ইজিবাইক চালক বলেন, “সারাদিন গাড়ি না চালাতে পারলে পরিবারের খাবার জোটে না। পাম্পে তেল নেই, এখন আমরা কোথায় যাব?”
রৌমারী ছাড়া দেশের অন্য কোথাও একই ধরনের সংকটের খবর না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী যদি দেশে জ্বালানি সংকট না-ই থাকে, তাহলে শুধুমাত্র রৌমারীতে কেন এই পরিস্থিতি তৈরি হলো? এটি কি সরবরাহ ব্যবস্থার সাময়িক সমস্যা, নাকি অন্য কোনো কারণে সৃষ্ট কৃত্রিম সংকট—এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সাধারণ মানুষের মনে।
এ বিষয়ে ব্রহ্মপুত্র ফিলিং স্টেশনের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা তেল শেষ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তারা জানান, নতুন সরবরাহ পেলেই পুনরায় বিক্রি শুরু করা হবে। তবে কী কারণে এই সাময়িক সংকট সৃষ্টি হয়েছে, সে বিষয়ে তারা স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, জ্বালানির মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের সরবরাহ নিয়ে সরকারের তথ্য ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার মধ্যে এমন বৈপরীত্য জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। তাদের দাবি, যদি কোনো এলাকায় সরবরাহজনিত সমস্যা থেকে থাকে, তবে সেটি দ্রুত সমাধান করা এবং জনগণকে স্বচ্ছ ও সঠিক তথ্য জানানো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।
রৌমারীর মতো সীমান্তবর্তী ও গুরুত্বপূর্ণ উপজেলায় জ্বালানি তেলের আকস্মিক সংকট স্থানীয় পরিবহন ব্যবস্থা, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাই দ্রুত পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং পরিস্থিতির প্রকৃত কারণ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।





