
রামপালে সরকারি রেকর্ডভুক্ত সকল খাল দখলমুক্তের দাবিতে বিক্ষোভ মানববন্ধন
খাল-নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার জোর দাবি
৩০ জুলাই ২০২৬ | বৃহস্পতিবার
আরিফ হাসান গজনবী
রামপাল (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় সরকারি রেকর্ডভুক্ত সকল খাল অবৈধ দখলমুক্ত করে খাল ও নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনার দাবিতে বিক্ষোভ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
রামপাল উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদ-এর উদ্যোগে আয়োজিত এ মানববন্ধনে স্থানীয় কৃষক, মৎস্যজীবী, পরিবেশ সচেতন নাগরিক, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, রামপাল উপজেলার মল্লিকেরবেড় ইউনিয়নের ছোট সন্ন্যাসী–বড় ভাইজোড়া খাল, ছোট ভাইজোড়া খাল, ভোজপাতিয়া ইউনিয়নের ডাকুয়ার খালসহ উপজেলার সরকারি রেকর্ডভুক্ত অসংখ্য খাল দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী মহলের অবৈধ দখলে রয়েছে। ফলে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, জলাবদ্ধতা বাড়ছে, কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং মৎস্যসম্পদ হুমকির মুখে পড়ছে।
বক্তারা বলেন, খাল দখল ও ভরাটের কারণে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা তীব্র আকার ধারণ করছে। একই সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি উৎপাদন এবং নৌ-যোগাযোগও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তারা অবিলম্বে রামপাল উপজেলার সরকারি রেকর্ডভুক্ত সকল খাল দখলমুক্ত করে পুনঃখননের মাধ্যমে খাল ও নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা এবং জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানান। এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের প্রতি আহ্বান জানান বক্তারা।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন রামপাল উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মল্লিক জিয়াউল হক (জিয়া), বাঁশতলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল্লাহ আজমির, বিএনপি নেতা মাহফুজ আকুঞ্জি, উপজেলা মহিলা দল নেত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস, নাজমা খাতুন, এহতেশামুল আলম, শাহিনুর রহমান পলাশ, সাবু, কামরুল ইসলাম, আরিফুর রহমান, লিটন শেখ, রিপন শেখ, নাজমুল হাসান, সোহেল, সোহাগ, আরাফাতসহ উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের কৃষক, মৎস্যজীবী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারি রেকর্ডভুক্ত খালসমূহ দখলমুক্ত ও পুনরুদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ না করা হলে স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আরও বৃহত্তর শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
প্রকাশের আগে স্থান, উপস্থিত ব্যক্তিদের নামের বানান এবং কর্মসূচির স্থান-সময়ের তথ্য একবার সংশ্লিষ্ট আয়োজকদের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া ভালো, যাতে সংবাদটি তথ্যগতভাবে নির্ভুল থাকে।





