
যশোরে দুই শিশুর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত: নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের দাবিতে এক মায়ের আকুতি
মোঃযায়েদ আলী জাহিদ
যশোর জেলা প্রতিনিধি:
যশোরের পালবাড়ি এলাকার অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য সার্জেন্ট হারুন অর রশিদের পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও মানসিক দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরিবারের দাবি, ২০১১ সালে পারিবারিকভাবে বরিশালে জন্ম নেওয়া ও ঢাকায় বসবাসকারী আব্দুর রহিম হিমেলের সঙ্গে হারুন অর রশিদের মেয়ে খাদিজা আক্তার ইমার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে জন্ম নেয় দুই সন্তান—রোদসী ও আমির হামজা।
স্বজনদের অভিযোগ, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই হিমেলের বিরুদ্ধে মাদকাসক্তি, পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়া, জুয়া খেলা, পারিবারিক নির্যাতন এবং বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ সামনে আসে। ইমা এসবের প্রতিবাদ করলে তিনি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এছাড়া ব্যবসার কথা বলে হিমেল প্রায় ১০ লাখ টাকারও বেশি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলেও পরিবারের দাবি।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, তাদের দুই সন্তানের এখনও জন্মনিবন্ধন সম্পন্ন হয়নি। ফলে শিশু দুটিকে বিদ্যালয়ে ভর্তি করানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা এবং থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলেও এখন পর্যন্ত তারা কোনো কার্যকর প্রতিকার পাননি। বরং অভিযুক্তের পক্ষ থেকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এ অবস্থায় খাদিজা আক্তার ইমা ও তার পরিবার নিজেদের নিরাপত্তা, দুই সন্তানের জন্মনিবন্ধন সম্পন্ন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এখন প্রশ্ন উঠেছে—দুই অবুঝ শিশুর জন্মনিবন্ধন কি সম্পন্ন হবে? অসহায় এই মা ও তার পরিবার কি পাবে ন্যায়বিচার ও নিরাপদ জীবন? সেই উত্তরই খুঁজছে পরিবারটি।





