
আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্টদের কমিটিতে স্থান দেওয়ার অভিযোগ, নীলফামারীতে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টে ক্ষোভ
রাব্বি রহমান নীলফামারী
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের নীলফামারী জেলা কমিটিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের রাজনীতি ও দলীয় কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন—এমন ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। রিন্টু ঘোহ এসব নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামীলীগের লোকজন নিয়ে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ কল্যান ফন্ট এর কমিটি অনুমোদন করেন
এ ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন প্রদীপ কুমার দে মিঠু। সদস্য সচিব বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ কল্যান ফন্ট নীলফামারী জেলা শাখা প্রদীপ কুমার দে মিঠুর অভিযোগ, নীলফামারী জেলা কমিটিতে টিকেন্দ্রজিত রায় মিরু (সাবেক চেয়ারম্যান, সংগলশী), উত্তম কুমার সিং (তহশিলদার, পৌর ভূমি অফিস), উজ্জ্বল কান্তি লাল,
যাদব কুমার (ডোমার) এবং ভূপতি ভূষণ রায় (সহকারী অধ্যাপক, মীরগঞ্জ কলেজ)-কে গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হয়েছে। তারা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় রাজনীতি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
তার অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচি ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সঙ্গে তাদের প্রকাশ্য উপস্থিতির একাধিক ছবি রয়েছে। এছাড়া ওই সময় তারা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন বলেও অভিযোগ করেন প্রদীপ কুমার দে মিঠু।
তিনি বলেন, “জুলাই আন্দোলনের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়েছে। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অথচ সেই সরকারের সময় দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ও সুবিধাভোগী হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিরাই কীভাবে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও অধিকারভিত্তিক সংগঠনের জেলা কমিটিতে স্থান পেলেন এটি অত্যন্ত প্রশ্নবিদ্ধ।”
প্রদীপ কুমার দে মিঠু আরও বলেন, “যাদের রাজনৈতিক অতীত প্রকাশ্য এবং তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের ছবি রয়েছে, তাদের রাজনৈতিক ভূমিকা যাচাই না করে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদে রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এতে সংগঠনটির নিরপেক্ষতা ও ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে পড়বে।”
তার অভিযোগ, জুলাই আন্দোলনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন হলেও বিগত সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের নতুন করে সাংগঠনিক পদে স্থান দেওয়ার মাধ্যমে তাদের পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত সংগঠনের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “একদিকে জুলাই আন্দোলনের চেতনা, অন্যদিকে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থান—এই দ্বৈত অবস্থান কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”
প্রদীপ কুমার দে মিঠু অবিলম্বে নীলফামারী জেলা কমিটি পুনর্বিবেচনা করে অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক অতীত ও দলীয় সম্পৃক্ততা যাচাই-বাছাই এবং তাদের কমিটি থেকে অপসারণের দাবি জানান।
তিনি ঘোষণা দেন, অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তিদের কমিটি থেকে অপসারণ করা না হলে প্রদীপ কুমার দে মিঠুসহ অন্যান্য সদস্যরা মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের কথাও জানান তারা।





