
যশোরে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে “সাতক্ষীরা ঘোষ ডেয়ারী”র রমরমা ব্যবসা
স্বাস্থ্যঝুঁকিতে সাধারণ মানুষ, সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব
যশোর প্রতিনিধি:
রফিকুল ইসলাম সবুজ
যশোর সদর উপজেলায় বিএসটিআই ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো অনুমোদন ছাড়াই ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে একাধিক ভুয়া ও অনুমোদনহীন ডেইরি শপ। এদের বেশিরভাগই সাতক্ষীরা ঘোষ ডেয়ারী ও আদি সাতক্ষীরা ঘোষ ডেয়ারী সাইনবোর্ড ব্যবহার করে দই-মিষ্টির রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
সরজমিনে তথ্য নিয়ে যা বেরিয়ে এসেছে তাতে আতঙ্কিত হওয়ার মতো।
নোংরা পরিবেশে তৈরি হচ্ছে খাবার
অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের কারখানাগুলোতে অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে মিষ্টি ও দই।
মুড়লির মোড়ের সাতক্ষীরা ঘোষ ডেয়ারী”র দেখা যায়, শোকেস খোলা, রাস্তার ধুলা-ময়লা সরাসরি খাবারের উপর পড়ছে। ফ্রিজে বাসি-পচা দই, সন্দেশ রেখে পরের দিন বিক্রির অভিযোগও আছে।
নিয়ম অনুযায়ী দই তৈরির জন্য বিএসটিআইয়ের ছাড়পত্র এবং ওজন মাপার মিটার স্কেলে বিএসটিআই অনুমোদিত স্টিকার থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু দোকানগুলোতে এসবের কোনো বালাই নেই।
শুধু তাই নয়, মিষ্টির মূল্যের সাথে ভারী কার্টুনের ওজন মেপে ক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
ফলে একদিকে সাধারণ মানুষ চরম প্রতারণা ও স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ছেন, অন্যদিকে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।
অভিযোগের তীর মোহন ঘোষ এর দিকে। তার গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহ। তিনি যশোরে এসে এই ব্যবসা করছেন।
দোকানের নাম :
সাতক্ষীরা ঘোষ ডেয়ারী
সাইনবোর্ডের মালিক : প্রোঃ রাজু ঘোষ
ঠিকানা: মুড়লির মোড়, বেনাপোল রোড, সদর, যশোর
রুপদিয়া বাজারের সাতক্ষীরা ঘোষ ডেয়ারী কারখানার মালিক গোবিন্দ কুমার ঘোষ বলেন, _”আমার বিএসটিআইর ছাড়পত্র নেই। কারখানা থাকলে একটু অপরিচ্ছন্ন থাকতেই পারে। তবে পরবর্তীতে ঠিক করে নিব।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসটিআই-এর উপ-পরিচালক (সিএম) প্রকৌশলী আসলাম শেখ বলেন, _আমরা একটা অভিযান পরিচালনা করেছি। অনুমোদনহীন ও নোংরা পরিবেশে খাদ্যপণ্য তৈরি ও অবৈধভাবে দই প্রস্তুত ও বিক্রি করছে, তাদের বিরুদ্ধে খুব শিগগিরই কঠোর আইনি পদক্ষেপ ও নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। কোনো অসাধু ব্যবসায়ীকে ছাড় দেওয়া হবে না।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, প্রশাসনিক তদারকির অভাবে দোকানগুলো লাগামহীনভাবে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। মাঝে মধ্যে কিছু লোকদেখানো অভিযান চালানো হলেও তা কোনো স্থায়ী সমাধান আনছে না।
ফলে ভেজাল ও অপরিচ্ছন্ন উপায়ে উৎপাদিত এসব খাদ্যপণ্য খেয়ে সাধারণ মানুষ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী ও সচেতন নাগরিকরা এ বিষয়ে অনতিবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।





