
শিক্ষকরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে না আসায় লাঠি হাতে আন্দোলনে কুড়িগ্রামের শিশু শিক্ষার্থীরা
মোঃ জাফর আহমদ কুড়িগ্রাম জেলা সংবাদদাতাঃ
কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলে শিক্ষকদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকার অভিযোগে এবার প্রতিবাদে নেমেছে কোমলমতি প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা। হাতে লাঠি নিয়ে বিদ্যালয়ের সামনে অবস্থান এবং বন্ধ শ্রেণিকক্ষের দরজায় লাথি মারার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) ব্রহ্মপুত্র নদের অববাহিকার খেয়া আলগার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে সব শ্রেণিকক্ষ বন্ধ দেখতে পায় শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর শিক্ষক না আসায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়। এ সময় কয়েকজন শিক্ষার্থীকে হাতে লাঠি নিয়ে প্রতিবাদ করতে দেখা যায়। বন্ধ শ্রেণিকক্ষের দরজায় লাথি মেরেও ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে শিক্ষক থাকলেও তারা নিয়মিত উপস্থিত হন না। ফলে দিনের পর দিন ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান। এতে প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের শিশুদের শিক্ষাজীবন চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদেরও অভিযোগ, বিদ্যালয়ে পাঁচজন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও তাঁদের কেউই নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন না।
শিক্ষার মতো মৌলিক অধিকার থেকে চরাঞ্চলের শিশুদের বঞ্চিত করার এমন অভিযোগ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাঁদের প্রশ্ন, বিদ্যালয়ে শিক্ষক উপস্থিত না থাকলে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা কার কাছে পড়াশোনা করবে? সরকারি অর্থে পরিচালিত একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকরা নিয়মিত দায়িত্ব পালন না করলে এর দায় নেবে কে?
অভিভাবকদের দাবি, প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা ও ভৌগোলিক প্রতিকূলতাকে অজুহাত বানিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম অবহেলা করার সুযোগ নেই। বিদ্যালয়ে শিক্ষক উপস্থিতি নিশ্চিত করা, নিয়মিত পাঠদান চালু করা এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইসরাত জাহানের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকার বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের মতে, শিশু শিক্ষার্থীদের হাতে লাঠি উঠে আসা শুধু একটি বিদ্যালয়ের অনিয়মের চিত্র নয়; এটি প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি গভীর অসন্তোষেরও বহিঃপ্রকাশ। তাই ঘটনাটিকে হালকাভাবে না দেখে দ্রুত তদন্ত করে শিক্ষক উপস্থিতি ও পাঠদানের বাস্তব চিত্র প্রকাশ করা এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে চরাঞ্চলের শিশুদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর ও নিয়মিত তদারকি জরুরি।





