
যশোরে দাতার সম্পত্তির লাখ লাখ টাকা লুটপাট করার অভিযোগ সহকারী শিক্ষক রাকিবের বিরুদ্ধে
সরকারি স্কুলে পকেট কমিটি, ব্যাংকে জমা হয়না টাকা
যশোর প্রতিনিধি :
রফিকুল ইসলাম সবুজ
তারিখ: ১৯ আগস্ট ২০২৬ ইং
একজন নিঃসন্তান দানশীল নারীর ত্যাগের বিনিময়ে গড়ে ওঠা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আজ অনিয়ম আর লুটপাটের আখড়া বানিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে সহকারী শিক্ষক রাকিবের বিরুদ্ধে।
দাতার ৫ বিঘা জমি থেকে আসা টাকার হিসাব নেই। দাতা সদস্য শূন্য রেখে গঠন করা হয়েছে ‘পকেট কমিটি’।
ব্যাংকে জমা না হয়ে টাকা থাকে প্রধান শিক্ষিকা ও সহকারী শিক্ষক রাকিবের পকেটে।
এমনকি টাকার হিসাব রাখতে বলা হচ্ছে ‘বেসরকারি খাতায়’!
৫ বিঘা জমি দান, আজ স্মৃতিই শুধু
যশোর সদর উপজেলার হৈবতপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ১৬১ নম্বর রহমতপুর সরোজিনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
১৯৬৮ সালে স্থানীয় দানশীল নারী শ্রীমতি সরোজিনী বালা দাশ্য নিজের তিলে তিলে গড়ে তোলা ৫ বিঘা জমি দান করে প্রতিষ্ঠা করেন এই বিদ্যালয়। ১৯৮৭ সালে তিনি পরলোকগমন করেন। স্কুলের দেয়ালে তার ছবি টাঙানো থাকলেও, আজ তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি নিয়ে চলছে চরম অনিয়ম।
অভিযোগ-১: দাতা শূন্য পকেট কমিটি
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়ম ভেঙে দাতা সদস্য শূন্য রেখেই ১১ সদস্যের পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। স্থানীয়দের বাদ দিয়ে দূরের লোকজনকে এনে কমিটি করা হয়েছে।
আরও অভিযোগ, জসিম নামের এক ব্যক্তি যার সন্তান আগে মাদ্রাসায় পড়ত, তাকে হঠাৎ স্কুলে ভর্তি করিয়ে সভাপতি বানানোর পাঁয়তারা চলছে। এ নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ।
জসিম উদ্দিন বলেন, _”যা শুনেছেন সব মিথ্যা। আমার ছেলে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। কমিটির বিষয় সহকারী শিক্ষক রকিব সব জানে। তাকে নাকি ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ-২: লিজের ৪০ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা হয়না
বিদ্যালয়ের নামে থাকা জমি লিজ দিয়ে প্রতি বছর প্রায় ৪০ হাজার টাকা আয় হয়। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এই টাকা ব্যাংকে জমা হওয়ার কথা।
কিন্তু সহকারী শিক্ষক রকিব হোসেন বলেন, টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে রাখা হয় না। প্রধান শিক্ষিকার কাছেই রক্ষিত থাকে। তিনি যখন যেভাবে প্রয়োজন খরচ করেন।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক, সহকারী শিক্ষা অফিসার মাহিদুল ইসলাম এই বিষয় জেনেও নীরব। অভিযোগ উঠেছে, তিনি টাকার হিসাব ‘সরকারি রেজিস্টারে’ না রেখে ‘বেসরকারি খাতায়’ লিপিবদ্ধ করার পরামর্শ দিয়েছেন!
মন্দিরের টাকা নিয়েও ধোঁয়াশা
লিজের টাকার একটি অংশ প্রতিষ্ঠাতার স্মৃতিবিজড়িত মন্দির ও পূজার কাজে দেওয়ার কথা।
রকিবের দাবি: ৩৫% স্কুল, ৬৫% মন্দির পায়।
মন্দির প্রতিনিধি *নিত্য মাস্টার বলেন: ৬০% মন্দির, ৪০% স্কুল পায় এবং টাকা ব্যাংকে জমা হয়। এমনকি ২০২৫ সালের টাকাও এখনো বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।
স্থানীয়রা বলছেন, গত ২-৩ বছর ধরে মন্দিরে কোনো পূজা-অর্চনাই হয় না।
প্রধান শিক্ষিকা নাসিমা সুলতানা বলেন,
কমিটির ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। গত বছর আমাকে ৩৮ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল। খরচের পর ১২ হাজার টাকা আমার কাছে আছে। ট্রেনিং থেকে ফিরে এসে টাকা জমা দেব।
সহকারী শিক্ষা অফিসারের বক্তব্য
অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষা অফিসার মাহিদুল ইসলাম বলেন,
বিষয়টির খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। টাকা রেজিস্টারভুক্ত আছে, তদন্ত করে সঠিকভাবে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।





