
যশোরে রাজারহাটের ‘ মশিয়ার সিন্ডিকেট ‘:তেলের চুরিতে দিশেহারা গাড়ি মালিকরা
যশোর প্রতিনিধি :
যশোরের রাজারহাটে সক্রিয় হয়ে উঠেছে অবৈধ জ্বালানি তেল বেচাকেনার শক্তিশালী এক সিন্ডিকেট। চক্রটির মূল হোতা মশিয়ার রহমানের খপ্পরে পড়ে চরম লোকসানের মুখে পড়ছেন স্থানীয় ট্রাক ও পরিবহন মালিকরা। ড্রাইভারদের কম বেতনের অজুহাতকে কাজে লাগিয়ে এই সিন্ডিকেট প্রতিদিন হাজার হাজার লিটার চোরাই তেল হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় পরিবহন মালিকদের সূত্রে জানা যায়, রাজপথের পাশে গড়ে ওঠা এই অবৈধ তেলের চোরকারবারিরা চালকদের কাছ থেকে বাজারমূল্যের চেয়ে কম দামে তেল কিনে মোটা অঙ্কের লাভ বানাচ্ছে। অন্যদিকে, নিয়মিত তেল চুরির কারণে আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন গাড়ি মালিকরা।
আব্দুল জব্বার ( ট্রাক মালিক) : “রাস্তায় গাড়ি নামালেই তেলের হিসাব পাওয়া যায় না। ট্যাঙ্ক ফুল করে দেওয়ার পরও চালকরা দাবি করে তেল শেষ। অনুসন্ধানে নেমে দেখলাম, রাস্তার পাশের এই সিন্ডিকেটের কাছেই চালকরা তেল বেচে দিচ্ছে।”
রশিদ “আমি নিজেও একজন চালক। কুষ্টিয়া থেকে খুলনা যাতায়াতে যে পরিমাণ তেল লাগে, অন্য চালকের হাতে গাড়ি দিলেই ১০ থেকে ১৫ লিটার তেল বেশি খরচ দেখানো হয়। এই পুরোটাই চুরি।”চুরি ও তেল বিক্রির বিষয়ে কয়েকজন চালকের সাথে কথা বললে তারা জানান, মালিকদের দেওয়া কম বেতনের কারণেই বাধ্য হয়ে তারা পথিমধ্যে তেল বিক্রি করেন।
অবৈধভাবে তেল কেনার বিষয়টি স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ব্যবসায়ী মশিয়ার রহমান। তিনি জানান, “ড্রাইভাররাই আমার কাছে তেল বিক্রি করতে আসে। সরকারের কোনো অনুমোদন আমার নেই, এভাবেই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছি।”
এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, যশোরের সহকারী পরিচালক সেলিমুজ্জামান জানান, “বিষয়টি প্রাথমিকভবে গাড়ি মালিকদেরই নজরদারিতে রাখা উচিত। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদারকি করা হবে।”
প্রশাসনের তদারকির অভাবে রাজারহাটের এই অবৈধ তেলের সিন্ডিকেট দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলে দাবি ভুক্তভোগী পরিবহন মালিকদের। দ্রুত অভিযান চালিয়ে এই চোরাই চক্র বন্ধের দাবি জানিয়েছেন তারা।





