
সারের দাবিতে উলিপুরে কৃষকের সড়ক অবরোধ, প্রশাসনের সহযোগিতায় দ্রুত সমাধান।
মোঃ জাফর আহমদ কুড়িগ্রাম জেলা সংবাদদাতাঃ
কুড়িগ্রামের উলিপুরে সারের দাবিতে আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকেরা। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের নতুন অনন্তপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে। প্রায় দেড় ঘণ্টা অবরোধের কারণে কুড়িগ্রাম-চিলমারী আঞ্চলিক সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে সার বিতরণ শুরু হলে অবরোধ তুলে নেন কৃষকেরা।
স্থানীয় সূত্র ও কৃষকদের ভাষ্য, নতুন অনন্তপুর বাজারের মেসার্স সুফিয়া এন্টারপ্রাইজ থেকে মঙ্গলবার সার দেওয়ার কথা ছিল। এ জন্য সকাল থেকেই কৃষকেরা সেখানে অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু সকাল সাড়ে ৯টার পরও ডিলারের লোকজন সার বিতরণ শুরু না করায় অপেক্ষমাণ কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। একপর্যায়ে তাঁরা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করেন। কয়েকজন কৃষকের অভিযোগ, কয়েক দিন ধরে ডিলারের কাছে ঘুরেও তাঁরা প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না।
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), পুলিশ ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। তাঁদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে সার বিতরণ শুরু করা হয়। উলিপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম বলেন, সার বিতরণকেন্দ্রে বিপুলসংখ্যক কৃষকের উপস্থিতির কারণে পরিস্থিতি সামাল দিতে কিছুটা সমস্যা হয়েছিল। পরে প্রশাসন ও পুলিশের সহায়তায় সুষ্ঠুভাবে সার বিতরণ করা হয়।
ডিলার প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক শামসুল আলম বলেন, সারের জন্য কৃষকদের ব্যাপক চাপ রয়েছে। কৃষি বিভাগ ও প্রশাসনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। প্রশাসন ও পুলিশের সহযোগিতায় পরে বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হয়।
তবে উলিপুরের এই ঘটনা বিচ্ছিন্ন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। চলতি মাসেই কুড়িগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় সারের দাবিতে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ এবং কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করার মতো একাধিক ঘটনা ঘটেছে। ১৮ সেপ্টেম্বর নাগেশ্বরীতে সার না পেয়ে কৃষকেরা সড়ক অবরোধের পাশাপাশি এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে কয়েক ঘণ্টা গুদামে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
এদিকে ৮ সেপ্টেম্বর কৃষি বিভাগ জানিয়েছিল, কুড়িগ্রামে সরকারি গুদামে পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে এবং নির্ধারিত মূল্যে ডিলারদের মাধ্যমে বিতরণ চলছে। কৃষকদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত সার না কেনারও আহ্বান জানানো হয়েছিল।
সরকারি পর্যায়ে পর্যাপ্ত মজুত থাকার দাবি এবং মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সার না পাওয়ার অভিযোগ।এই দুইয়ের মধ্যে যে ব্যবধান দেখা যাচ্ছে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরবরাহে কোথায় বিলম্ব হচ্ছে, ডিলার পর্যায়ে বিতরণ ব্যবস্থা কতটা কার্যকর, বরাদ্দের তুলনায় স্থানীয় চাহিদা যথাযথভাবে নিরূপণ হচ্ছে কি না এবং খুচরা পর্যায়ে কৃষকের কাছে সার পৌঁছানোর ব্যবস্থা কতটা সহজ—এসব বিষয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কৃষকদের একটি অংশের দাবি, শুধু নির্দিষ্ট ডিলারের ওপর নির্ভর না করে অনুমোদিত খুচরা বিক্রেতাদের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত ও তদারকির আওতায় সার বিক্রির সুযোগ বাড়ানো গেলে সরবরাহব্যবস্থার চাপ কিছুটা কমতে পারে। তবে এমন ব্যবস্থা চালু করার আগে সরকারি বরাদ্দ, মূল্যনিয়ন্ত্রণ ও মনিটরিংয়ের বিষয়গুলোও স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর,এই তিন মাসে কুড়িগ্রামে ১২ হাজার ৪৮৩ টন ইউরিয়া সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই বরাদ্দ হয়েছে ৪ হাজার ৬৪৪ টন।
ফলে প্রশ্ন উঠছে,বরাদ্দ ও মজুত যদি পর্যাপ্তই থাকে, তাহলে মাঠপর্যায়ে সার পাওয়ার জন্য কৃষকদের কেন বারবার সড়কে নামতে হচ্ছে? কৃষকের উৎপাদন মৌসুমে এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সরবরাহব্যবস্থার প্রতিটি ধাপের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি।





