
নগরকান্দায় প্রবাসী ছেলের স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার অভিযোগ
কাজী ও শ্বশুরের বিরুদ্ধে ডিসি অফিসে লিখিত অভিযোগ
মামুন মিঞা
ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি
ফরিদপুরের নগরকান্দায় প্রবাসী ছেলের স্ত্রীকে তার অনুপস্থিতিতে তালাক দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছেলের বাবা ও স্থানীয় নিকাহ রেজিস্ট্রারের (কাজী) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিকাহ রেজিস্ট্রার কাজী মৌলবী মাওলানা মাহাবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন মারুফা বেগমের বাবা লুকমান শেখ।
লিখিত অভিযোগ ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নগরকান্দা উপজেলার কোদালিয়া শহীদনগর ইউনিয়নের দেলবাড়িয়া গ্রামের মন্নু শেখের ছেলে সোহাগ শেখের সঙ্গে প্রায় পাঁচ বছর আগে লস্করদিয়া ইউনিয়নের জুঙ্গুরদী গ্রামের লুকমান শেখের মেয়ে মারুফা বেগমের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে চার বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। বিয়ের প্রায় তিন বছর পর সোহাগ শেখ সৌদি আরবে যান।
মারুফার বাবার অভিযোগ, সোহাগ শেখ সৌদি আরবে অবস্থানকালে গত ১৩ জুলাই ২০২৬ তারিখে তার মেয়েকে তালাক দেওয়া হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, স্বামী দেশে উপস্থিত না থাকলেও তার বাবা মন্নু শেখের মাধ্যমে নিকাহ রেজিস্ট্রার কাজী মৌলবী মাওলানা মাহাবুবুর রহমান তালাকের কার্যক্রম সম্পন্ন করেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মুসলিম বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন বিধিমালা, ২০০৯-এর বিধি ২৭(১)(খ) অনুযায়ী স্বামী কর্তৃক প্রদত্ত তালাক হিসেবে রেজিস্টার বহি ‘বি’, বহি নম্বর-০২, পৃষ্ঠা নম্বর-৪৬, বালাম নম্বর-০৩(খ), তারিখ ১৫ জুলাই ২০২৬-এ মারুফা বেগমকে তালাক দেওয়ার বিষয়টি নথিভুক্ত করা হয়েছে।
তালাকনামার কপি পাওয়ার পর গত ২০ আগস্ট ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন লুকমান শেখ। একই সঙ্গে তিনি বিষয়টি নিয়ে আদালতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
লুকমান শেখ অভিযোগ করে বলেন, “আনুষ্ঠানিকভাবে আমার মেয়ের সঙ্গে সোহাগের বিয়ে দিয়েছি। তাদের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। বিয়ের সময় সাধ্যমতো সোনা-গহনা ও আসবাবপত্র দিয়েছি। বিয়ের পর জামাই ইতালি যাবে বলেও তাকে টাকা দিয়েছিলাম। পরে সে ইতালি না গিয়ে সৌদি আরব যায়। সে বিদেশে থাকার সময় তার বাবা ও কাজীর যোগসাজশে আমার মেয়েকে তালাক দেওয়া হয়েছে। আমি তাদের বিরুদ্ধে আদালতে আইনগত ব্যবস্থা নেব।”
এদিকে গত ২১ সেপ্টেম্বর সোহাগ শেখ সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন বলে জানা গেছে।
প্রবাসী স্বামী দেশে না থাকা অবস্থায় তার বাবা কীভাবে তালাকের কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন—এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে তালাকের আইনগত বৈধতা এবং নিকাহ রেজিস্ট্রারের কার্যক্রম বিধিসম্মত ছিল কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের বিষয়।
অভিযোগের বিষয়ে নিকাহ রেজিস্ট্রার কাজী মৌলবী মাওলানা মাহাবুবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি স্কুলে আছি। একটু পর বের হব। আজ ব্যস্ত আছি, কাল দেখা করব।” পরে তার বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগ রয়েছে, কোদালিয়া শহীদনগর ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রারের নির্ধারিত কার্যালয় না থাকায় কাজী মাহাবুবুর রহমান নগরকান্দা পৌরসভা এলাকায় নিজ বাড়িতে বসে বিয়ে ও নিকাহসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন। পাশাপাশি তিনি পোড়াদিয়া এস এ খান উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন বলেও স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এতে ইউনিয়নের বাসিন্দাদের বিয়ে ও নিকাহসংক্রান্ত কাজে ভোগান্তিতে পড়তে হয় বলে অভিযোগ তাদের।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, এর আগেও কাজী মাহাবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল এবং তা নিয়ে এলাকায় সালিস-বৈঠক হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কাজী মাহাবুবুর রহমানের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে সোহাগ শেখের বাবা মন্নু শেখ বলেন, “ছেলের বউ অনেক খারাপ। এত খারাপ, তা বলে বোঝানো যাবে না।” ছেলে বিদেশে থাকা অবস্থায় তালাক দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে আর কথা না বলে ব্যস্ততার কথা জানিয়ে চলে যান।
ঘটনাটি নিয়ে অভিযোগকারী পক্ষ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। অভিযোগের সত্যতা, তালাকের প্রক্রিয়া এবং নিকাহ রেজিস্ট্রারের ভূমিকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের পরই প্রকৃত বিষয়টি স্পষ্ট হবে।





