
দুই শিশুর সামনে নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ, শ্রীপুরে আটক ২
শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: আল আমিন খান
গাজীপুরের শ্রীপুরে দুই শিশুসন্তানের সামনে তাদের মাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে মো. সোহরাব নামে এক পান ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পানের আড়তে কর্মরত গৌতম ও শহীদ নামে দুই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়েছে পুলিশ। তবে অভিযোগ ওঠার পর থেকে সোহরাবকে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় কান্নাজড়িত কণ্ঠে ২৭ বছর বয়সী ওই নারী অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার রাতে দুই সন্তানকে নিয়ে মাওনা চৌরাস্তার উড়ালসড়কের নিচে অবস্থান করছিলেন তিনি। এ সময় সোহরাব আশ্রয় ও আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে তাঁকে চৌরাস্তার পূর্ব পাশে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর সঙ্গে জোরপূর্বক যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা হয় বলে অভিযোগ করেন ওই নারী।
ওই নারী বলেন, তাঁর দুই সন্তানের মধ্যে একজনের বয়স প্রায় সাড়ে চার বছর। ঘটনার সময় শিশুটিকে তাঁর কাছ থেকে সরিয়ে নিয়ে তাঁর সঙ্গে জোরপূর্বক ‘খারাপ কাজ’ করা হয় বলে অভিযোগ তাঁর।
দুই সন্তানের জননী ওই নারী জানান, প্রায় এক বছর আগে তাঁর স্বামী তাঁকে ছেড়ে চলে যান। এরপর তিনি শ্রীপুরের জৈনাবাজার কলেজ রোড এলাকায় দুই সন্তানকে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন। কয়েক মাসের ভাড়া বকেয়া থাকায় মঙ্গলবার বাড়ির মালিক তাঁকে ঘর থেকে বের করে দেন। পরে দুই সন্তানকে নিয়ে মাওনা চৌরাস্তায় আশ্রয় নেন তিনি।
ঘটনার পর স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ীর কাছে বিচার চেয়েছিলেন বলেও জানান ওই নারী। তাঁর অভিযোগ, বিচার করার পরিবর্তে তাঁকে ৫০০ টাকা দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে আরও কয়েকজনের কাছে গিয়ে বিচার না পেয়ে তিনি দুই সন্তানকে নিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে জানান। এ সময় তাঁর এক শিশুসন্তান আহত হয়।
পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে মাওনা চৌরাস্তার পানের আড়ত এলাকায় নিয়ে যান। খবর পেয়ে শ্রীপুর থানার পুলিশ সেখানে গিয়ে ওই নারী ও দুই শিশুকে নিয়ে যায়। একই সঙ্গে গৌতম ও শহীদ নামে দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়।
পানের আড়তদার মহসিন আলী জানান, সোহরাব কয়েক বছর ধরে ওই এলাকায় পান ব্যবসা করেন। অভিযোগের বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর তিনি সেখান থেকে চলে যান। তবে ঘটনার বিষয়ে তিনি ওই নারীর অভিযোগের কথা শুনেছেন।





