
খড়ের ঘর থেকে চারতলা,কুড়িগ্রামের গোরস্থান জামে মসজিদের ৫২ বছরের পথচলা
মোঃ জাফর আহমেদ, কুড়িগ্রাম জেলা সংবাদদাতা। ২অক্টোবর শুক্রবার ২৬
কুড়িগ্রাম কেন্দ্রীয় কবরস্থানের পাশেই দাঁড়িয়ে আছে গোরস্থান জামে মসজিদ। ১৯৭৪ সালে ছোট্ট একটি খড়ের ঘর থেকে যার যাত্রা শুরু, সময়ের পরিক্রমায় সেই মসজিদ আজ চারতলা বিশিষ্ট একটি সুন্দর ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এর পেছনে রয়েছে মরহুম মাওলানা বদিউজ্জামানসহ কুড়িগ্রামের বহু বিত্তবান, সম্মানিত ব্যক্তি, মুসল্লি ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা।
প্রতিষ্ঠার সময় মসজিদটিতে মুসল্লির সংখ্যা ছিল খুবই কম। ধীরে ধীরে মানুষের অংশগ্রহণ ও সহযোগিতায় গড়ে ওঠে মসজিদের অবকাঠামো। বর্তমানে আলহামদুলিল্লাহ, মসজিদটি চারতলা ভবনে রূপ নিয়েছে। স্থানীয়দের কাছে এটি শুধু নামাজ আদায়ের স্থান নয়, বরং দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও সামাজিক স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি প্রতিষ্ঠান।
মসজিদটির নিজস্ব কোনো স্থায়ী আয়ের উৎস নেই। মুসল্লি, মসজিদ কমিটি ও কুড়িগ্রামের মানুষের সহযোগিতাই এর পরিচালনা ও বিভিন্ন ব্যয়ের অন্যতম প্রধান উৎস বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
এই মসজিদের ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে মরহুম মাওলানা বদিউজ্জামানের নাম। তিনি জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত গোরস্থান জামে মসজিদের পেশ ইমামের দায়িত্ব পালন করেছেন। আশির দশকে তিনি কুড়িগ্রামে পরিচিত একজন আলেম হিসেবে ছিলেন। ছাত্রজীবনে তিনি ভারতেও লেখাপড়া করেছেন বলে স্থানীয়ভাবে জানা যায়। সে সময় তিনি ‘মাওলানা বদিউজ্জামান ছাত্রপুরী’ নামেও পরিচিত ছিলেন।
১৯৯৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর, শুক্রবার, ৬ শাবান তিনি মৃত্যুবরণ করেন। আজও কেন্দ্রীয় কবরস্থানে মসজিদের মেহরাবের ঠিক সামনেই চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন তিনি। প্রতিদিন মসজিদে নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিদের অনেকের কাছেই তাঁর স্মৃতি যেন এই মসজিদের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
গোরস্থান জামে মসজিদের সভাপতি মোঃ মাহাবুবার রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক মসজিদের প্রতিষ্ঠা, দীর্ঘ পথচলা ও মরহুম মাওলানা বদিউজ্জামানের অবদানের কথা তুলে ধরেন। তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে,যাঁদের শ্রম, অর্থ, সময় ও আন্তরিক সহযোগিতায় মসজিদটি আজকের অবস্থানে এসেছে, তাঁদের অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা উচিত।
৫২ বছরের পথচলায় এই মসজিদের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন অসংখ্য মানুষ। কেউ সহযোগিতা করেছেন অর্থ দিয়ে, কেউ শ্রম দিয়ে, কেউবা দিয়েছেন সময় ও পরামর্শ। তাঁদের অনেকেই আজ আর পৃথিবীতে নেই। তাঁদের অবদানই আজকের এই প্রতিষ্ঠানের ভিত্তি।
মসজিদ সংশ্লিষ্টরা বলেন, যারা এই মসজিদ প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছেন এবং ইতোমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন, মহান রাব্বুল আলামিন যেন তাঁদের সবাইকে জান্নাতের অধিবাসী করেন। আর যারা জীবিত আছেন এবং এখনও মসজিদের খেদমতে যুক্ত রয়েছেন, আল্লাহ যেন তাঁদের নেক হায়াত ও সুস্থতা দান করেন।
কুড়িগ্রামের গোরস্থান জামে মসজিদ তাই শুধু একটি চারতলা ভবন নয়,এটি বহু মানুষের শ্রম, ভালোবাসা, ধর্মীয় অনুভূতি ও কয়েক দশকের স্মৃতির এক জীবন্ত সাক্ষী।





