
‘সেবাই পরিবর্তনের পথ’—সেবাই সংকল্প, সেবাই সংগঠনের মূলমন্ত্র—রক্তদান ও স্বাস্থ্য শিবিরে বিজেপির বার্তা
মোমিন আলি লস্কর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা -জয়নগর:
“সেবাই মানুষকে পরিবর্তন করতে পারে, সেবার ভাবনা মানুষকে একে অপরের কাছে নিয়ে যায়”—এই বার্তাকে সামনে রেখে জয়নগরে আয়োজন করা হল ‘সেবাই মেরা যোগদান’ কর্মসূচি।ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘সেবা ও সংকল্প’ ভাবনাকে সামনে রেখে ভারতীয় জনতা পার্টির জয়নগর সাংগঠনিক জেলা যুব মোর্চার সহ-সভাপতি মধুসূদন দাস, সম্পাদক রিংকু-সহ সংশ্লিষ্ট মণ্ডল সভাপতি, দলীয় নেতৃত্ব ও কর্মীদের উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।কর্মসূচিতে স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবির, বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং চক্ষু পরীক্ষা শিবিরের আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি ছিল বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও।
আয়োজকদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে সমাজজীবন রাজনৈতিক বিভাজনের মধ্যে আবদ্ধ হয়ে রয়েছে। সেই গণ্ডি পেরিয়ে সেবার মানসিকতা নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং হাতে হাত মিলিয়ে সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।
বক্তব্যে আরও বলা হয়, “সমাজ পরিবর্তনের জন্য শুধু রাজনীতি নয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সেবার মানসিকতাও জরুরি। আমরা চাই সেবার মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হোক এবং একটি সুন্দর সমাজ গড়ে উঠুক।”
অনুষ্ঠানের মঞ্চ ও প্রচারসজ্জা নিয়েও বক্তব্যে দলীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, অন্যান্য রাজনৈতিক কর্মসূচির মতো বহু নেতানেত্রীর ছবি না রেখে এখানে মূলত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ছবি রাখা হয়েছে—যা কর্মসূচির ভাবনাকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে বলে তাঁদের বক্তব্য।জয়নগর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি উৎপল নস্কর সাংবাদিকের মুখোমুখি হয়ে বলেন –
ভারতের গৌরবময় ইতিহাস, শিক্ষা-সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের কথা তুলে সমাজসেবার মাধ্যমে দেশকে আরও শক্তিশালী করে তোলার আহ্বান জানালেন।তিনি বলেন প্রাচীন ভারতের নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে দেশের শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চার দীর্ঘ ঐতিহ্যের প্রসঙ্গ। একই সঙ্গে ভারতকে পিছিয়ে দেওয়ার নানা ঐতিহাসিক ষড়যন্ত্রের কথাও তিনি তুলে ধরেন।
রবিবার জয়নগর বিজেপির সাংগঠনিক জেলা সভাপতি উৎপল নস্করের উপস্থিতিতে, জয়নগর-১ নম্বর মণ্ডল বিজেপির উদ্যোগে আয়োজিত হয় স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবির, বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চক্ষু পরীক্ষা শিবির। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিন উপলক্ষে চলা মাসব্যাপী ‘সেবা ও সংকল্প অভিযান’-এর অংশ হিসেবেই এই কর্মসূচির আয়োজন বলে জানানো হয়।তিনি আরো বলেন, বিজেপির মূল ভাবনা শুধু রাজনীতি নয়—‘সেবা, এবং সেবা’। মানুষের বিপদের সময় পাশে দাঁড়ানো, অসহায় মানুষের সহযোগিতা করা এবং সুস্থ সমাজ গড়ে তোলাই সংগঠনের অন্যতম লক্ষ্য।ভারতীয় মজদুর সংঘসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন নিজ নিজ ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে কাজ করে। কোনও সংগঠনের কাজে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নয়, বরং মানুষের সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনে সকলে একসঙ্গে কাজ করবে—এটাই সংগঠনের নীতি ও আদর্শ।রক্তদান শিবিরের পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চক্ষু পরীক্ষা শিবিরেও বহু মানুষ অংশ নেন। তিনি বলেন, রক্তদান একটি মহান মানবিক কাজ। একজনের রক্ত অন্য একজনের জীবন বাঁচাতে পারে। তাই সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এই ধরনের জনকল্যাণমূলক কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠান থেকে ভারতের উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও আত্মনির্ভরতার প্রসঙ্গও উঠে আসে। বক্তারা বলেন, নতুন প্রজন্মকে দক্ষ করে তুলতে শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যবহারিক ও কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব বাড়াতে হবে। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’-র ভাবনায় দেশকে আত্মনির্ভর ও শক্তিশালী করে তুলতে যুব সমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।বক্তার কথায়, “পরম বৈভবশালী ভারত” গড়ে তোলাই তাঁদের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যে দলীয় কর্মীদের মানুষের পাশে থেকে নিরলসভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বের প্রশংসা করে বক্তারা বলেন, তাঁর নেতৃত্বে ভারত বিশ্বমঞ্চে নতুন পরিচিতি লাভ করেছে। একই সঙ্গে সেবা ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সহযোগিতার পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়।এদিনের কর্মসূচিতে বিজেপির যুব মোর্চার জেলা সভাপতি, মণ্ডল সভাপতি-সহ দলের বিভিন্ন স্তরের নেতৃত্ব ও কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।পাশাপাশি সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
শেষে বক্তারা সকলের উদ্দেশে বার্তা দেন—রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত সেবা। সেবার মাধ্যমেই গড়ে উঠবে সুস্থ সমাজ, শক্তিশালী ভারত।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জয়নগর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি উৎপল নস্কর, জয়নগর এক নম্বর মন্ডল সভাপতি সহ ভারতীয় জনতা পাটির বিশেষ বিশিষ্ট নেতা নেতৃত্ব গন।





