
নদীভাঙনকবলিত কুড়িগ্রামে টেকসই আবাসনের তাগিদ।
মোঃ জাফর আহমেদ কুড়িগ্রাম জেলা সংবাদদাতাঃ
‘সার্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’,এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কুড়িগ্রামে বিশ্ব বসতি দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে জেলা প্রশাসন ও গণপূর্ত বিভাগের যৌথ উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
কুড়িগ্রাম গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল ফারুকের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কুদরত-এ-খুদা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কুদরত-এ-খুদা বলেন, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সুপরিকল্পিত নগরায়ণ ও সার্বজনীন বাসস্থানের কোনো বিকল্প নেই। নদীভাঙন ও দুর্যোগপ্রবণ কুড়িগ্রামে গৃহহীন ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য টেকসই আবাসন নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ। কৃষিজমি রক্ষা করে প্রতিটি নাগরিকের নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে রাষ্ট্র ও সমাজকে একযোগে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, নগরায়ণ মানে শুধু ইট-পাথরের স্থাপনা নির্মাণ নয়; পরিবেশের ভারসাম্য, পরিচ্ছন্নতা ও আধুনিক নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করাই টেকসই নগরায়ণের মূল লক্ষ্য। অবহেলিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে উন্নয়ন পরিকল্পনার বাইরে রেখে সুষম উন্নয়ন সম্ভব নয়।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিমতানুর রহমান, জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আজিজুর রহমান স্বপন, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু, প্রেসক্লাবের সভাপতি সফি খান, সাংবাদিক সাইয়েদ আহমেদ বাবু এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক রনি।
বক্তারা বলেন, নদীভাঙনে প্রতিবছর কুড়িগ্রামের বহু মানুষ বসতভিটা হারিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন। এ সংকট মোকাবিলায় নদীভাঙনকবলিত মানুষের জন্য বিশেষ আবাসন প্রকল্প গ্রহণ, পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নাগরিক সুবিধা সম্প্রসারণ জরুরি। একই সঙ্গে কৃষিজমি ও পরিবেশ রক্ষা করে দীর্ঘমেয়াদি নগর পরিকল্পনা গ্রহণের ওপরও গুরুত্ব দেন তারা।
অনুষ্ঠানে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, প্রকৌশলী, গণমাধ্যমকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।





