
নড়াইলে দুই আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে নির্যাতন-হয়রানির অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলন
আল শাহরিয়া আমিন
নড়াইল প্রতিনিধি:
নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের উড়ানি গ্রামে দুই আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে নির্যাতন, মারধর, হয়রানি ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে উড়ানি গ্রামে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
অভিযুক্তরা হলেন—উড়ানি গ্রামের গোলাম নবীর ছেলে ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাফিজ মোল্লা (৫০) এবং মৃত ইসমাইল মোল্যার ছেলে ও মাইজপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সলেমান মোল্লা (৯৫)।
সংবাদ সম্মেলনে রানা মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকার সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও নির্যাতন করা হচ্ছে। গত ২০ সেপ্টেম্বর শিশুদের বিরোধ ও আখ খাওয়াকে কেন্দ্র করে পৃথক সালিশ বসে। ওই সালিশে মারধর ও হামলার ঘটনা ঘটে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এসব ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং একটি ঘটনায় মামলা হয়েছে বলে জানান বক্তারা।
রূপালী খাতুন অভিযোগ করেন, তাঁর মেয়ের প্রেমঘটিত একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে সালিশে তাঁর স্বামীকে মারধর করা হয়। পরে কয়েক মাস অসুস্থ থাকার পর তাঁর স্বামী মারা যান বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন রূপালী খাতুন।
নাজমুল মোল্লা অভিযোগ করেন, একটি সালিশে তাঁর ও তাঁর বাবা জিয়া মোল্লার ওপর হামলা চালানো হয়। তাঁর বাবাকে রামদা, চাইনিজ কুড়াল ও লাঠি দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জিয়া মোল্লা, নাজমুল মোল্লা, রানা মোল্লা, রূপালী খাতুন, মিজানুর বিশ্বাস, সুপিয়া খাতুন ও ওহাব মোল্যাসহ ভুক্তভোগীরা বক্তব্য দেন। তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
অভিযুক্ত হাফিজ মোল্লা বর্তমানে একটি মামলায় কারাগারে থাকায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। অপর অভিযুক্ত সলেমান মোল্লার সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
ভুক্তভোগীদের দাবি, ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।





