
নগরকান্দায় ৬৩ পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি, গুরুত্বপূর্ণ ৩টি
মামুন মিঞা, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে ৬৩টি পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি পূজামণ্ডপকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ নজরদারির পরিকল্পনা করা হয়েছে। পূজা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে উদ্যাপনে প্রশাসন, পুলিশ ও পূজা উদ্যাপন কমিটির পক্ষ থেকে নেওয়া হচ্ছে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মহাপঞ্চমীর মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব। বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনব্যাপী এ ধর্মীয় উৎসব। পূজাকে ঘিরে উপজেলার বিভিন্ন মণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। পাশাপাশি নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সমন্বয় কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত তিনটি পূজামণ্ডপ হলো নগরকান্দা পৌরসভার চৌমুখা, পুরাপাড়া বাজার ও চরযশোরদী গ্রামের মন্দির। এসব মণ্ডপে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিশেষ নজরদারি রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন ফ্রন্টের নগরকান্দা উপজেলা শাখার প্রস্তুত করা তালিকা অনুযায়ী, পৌরসভা ছাড়াও উপজেলার লস্করদিয়া, ফুলসুতি, তালমা, ডাঙ্গী, রামনগর ও কাইচাইল ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে পূজামণ্ডপ রয়েছে। তালিকায় মণ্ডপগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম এবং যোগাযোগের নম্বর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন ফ্রন্টের নগরকান্দা উপজেলা শাখার সভাপতি রনদা প্রসাদ সরকার বলেন, “শারদীয় দুর্গাপূজা আমাদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ উৎসব আনন্দ, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বার্তা বহন করে। নগরকান্দার প্রতিটি পূজামণ্ডপে যেন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদ্যাপন করা যায়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন ও পূজা উদ্যাপন কমিটির মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখা প্রয়োজন। ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’—এই চেতনাকে ধারণ করে সবাইকে সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”
এদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এ বছর হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে মন্দিরগুলোতে আর্থিক সহায়তা পাওয়ার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, প্রতিটি মন্দিরের জন্য নির্ধারিত ফরম পূরণের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থসহায়তা পাওয়ার উদ্যোগে তিনি কাজ করেছেন। পাশাপাশি দলমত-নির্বিশেষে নগরকান্দার জাতীয়তাবাদী চেতনায় বিশ্বাসী ব্যক্তিদের ধর্মীয় উৎসব পালনে সহযোগিতা ও সহমর্মিতা নিয়ে পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
নগরকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ জানান, দুর্গাপূজা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশ, আনসার, গ্রাম পুলিশ, র্যাবসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। উৎসব চলাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত তিনটি পূজামণ্ডপে বিশেষ নজরদারির পরিকল্পনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পূজা উদ্যাপন কমিটি ও স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত সহযোগিতায় নগরকান্দায় শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্যাপিত হবে।





