
হৃদবন্ধন সাহিত্য পরিষদের সাহিত্য আসর অনুষ্ঠিত: “আধুনিক বাংলা কবিতায় নিসর্গ ও নাগরিক জীবনের দ্বন্দ্ব”
আল আমিন সুমন আহমদ
সিলেট প্রতিনিধি
সিলেট নগরীর স্থানীয় একটি রেস্তোরাঁর হলরুমে উৎসবমুখর ও প্রাণবন্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো ‘হৃদবন্ধন সাহিত্য পরিষদ’-এর অক্টোবর মাসের সাহিত্য আসর। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) আয়োজিত এই আসরের মূল আলোচনার বিষয় ছিল “আধুনিক বাংলা কবিতায় নিসর্গ ও নাগরিক জীবনের দ্বন্দ্ব”।
সংগঠনের সভাপতি হিমাংশু রায় হিমেলের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ফারুক হাসান সুজনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট কবি ও গবেষক মুহিবুর রহমান কিরণ।
বিষয়ভিত্তিক ও তত্ত্বভিত্তিক আলোচনায় অংশ নিয়ে কবি মুহিবুর রহমান কিরণ বলেন, “বাংলা কবিতার আদি উৎস মূলত নিসর্গ। চর্যাপদ থেকে শুরু করে বৈষ্ণব পদাবলি, মঙ্গলকাব্য হয়ে রবীন্দ্রনাথ পর্যন্ত বাংলা কবিতা ছিল প্রকৃতির উদার ক্যানভাস। কিন্তু বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশক থেকে বাংলা কবিতায় ‘নাগরিক জীবন’-এর এক নতুন বাস্তবতা প্রবেশ করে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, কলকাতা ও ঢাকার নগরায়ন, শিল্পায়ন, দেশভাগ এবং মধ্যবিত্তের গভীর অস্তিত্বের সংকট—সব মিলিয়ে বাংলা কবিতা আর নিসর্গের শান্ত কোলে সীমাবদ্ধ থাকেনি। তিরিশের পঞ্চপাণ্ডব—জীবনানন্দ দাশ, বুদ্ধদেব বসু, বিষ্ণু দে, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ও অমিয় চক্রবর্তী—কবিতায় এক নতুন আধুনিকতার ঢেউ তুলেছিলেন।”
পঞ্চাশের কবি শঙ্খ ঘোষ, শক্তি চট্টোপাধ্যায় ও সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ের শামসুর রাহমান, আল মাহমুদ, নির্মলেন্দু গুণ ও রফিক আজাদের সৃষ্টিতে নিসর্গ ও নাগরিক জীবনের যে বৈপরীত্য ও টানাপোড়েন পরিলক্ষিত হয়, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন মুখ্য আলোচক। তিনি বলেন, “প্রকৃতপক্ষে নিসর্গ ও নাগরিক জীবনের দ্বন্দ্ব আধুনিক মানুষেরই অন্তর্জগতের দ্বন্দ্ব। এই বৈপরীত্যই বাংলা কবিতাকে গতিশীল রেখেছে; কবিতাকে নিছক প্রকৃতির বর্ণনা থেকে তুলে এনে মানুষের গভীর মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক সংকটের প্রতিচ্ছবিতে পরিণত করেছে।”
উক্ত সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় আলোচনায় অন্যান্যদের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করেন গল্পকার জামান মাহবুব, কবি অমিতা বর্দ্ধন এবং লেখক মিহির মোহন, সন্তোষ রঞ্জন পাল, সন্দীপন শুভ, বারিন্দ্র দাস, রুনা তালুকদার, লাভলী পুরকায়স্থ মজুমদার, পপি ভৌমিক, ধনঞ্জয় দাশ, মলয় কান্তি পাল ও অভিনয় সরকার প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় কবি, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের উপস্থিতিতে পুরো আসরটি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।





